খুলনার উপকূলীয় এলাকার ৫ লক্ষাধিক মানুষের রাত কেটেছে চরম আতঙ্কে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সারা রাত উপকূলীয় জেলা খুলনায় দমকা বাতাসের সঙ্গে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত হয়। পানিতে তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চল। অপরদিকে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কিত উপকূলের মানুষ।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে খুলনা অঞ্চলে রোববার দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলাসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। সোমবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম জানান, কয়রা উপজেলার হরিণখোলা ও গাতিরঘেরীর বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের নিয়ে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া কয়রায় হোগলা, দোশহালিয়া, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট, ঘাটাখালী, গাববুনিয়ার, আংটিহারা, ৪ নম্বর কয়রা সুতির গেট ও মঠবাড়ির পবনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের স্ব স্ব এলাকার বাঁধের দিকে খেয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া দাকোপ উপজেলার অন্তত ২০টি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, খুলনা মহানগরীর রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, দোলখোলা রূপসা, পিটিআই মোড় বাইতিপাড়া, ট্যাঙ্ক রোড, আহসান আহমেদ রোড, খানজাহান আলী রোড, নিরালা, মুজগুন্নী, বয়রা ও প্রান্তিকাসহ অধিকাংশ আবাসিকের বাসা বাড়িতে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে।
এদিকে ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় খুলনা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা সোমবার বিকালে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে তার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
