ডিএনডিতে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে টানা বৃষ্টি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪৯

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে টানা ৪৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডিএনডির ভেতর ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে। উঁচু এলাকা হাঁটু ও নিচু এলাকা কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে রাস্তা ও দোকানপাট। বাড়িঘরে পানি। কোথায় ড্রেন আর কোথায় রাস্তা তা বোঝা দায়। শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও কেমিক্যালযুক্ত পানি ও ড্রেনের পানি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে একাকার। ময়লা, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে চলছে সাধারণ মানুষ। শুধু তা-ই নয়, ডিএনডি ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের অলিগলি সর্বত্র রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে একাকার। এদিকে ডিএনডির জলাবদ্ধতা সমস্যার খোঁজখবর নিয়েছেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান। তিনি এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএনডি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ফতুল্লার মুসলিমনগর, ধর্মগঞ্জ, হরিহরপাড়া, কাশিপুর, পৌষাপুকুরপাড়, হাজীপাড়া, দক্ষিণ সস্তাপুর, কোতালেরবাগ, শেহাচর, ইসদাইর, ভূঁইগড়, দেলপাড়া, আদর্শনগর, নয়ামাটি, পিলকুনি, বুড়ির দোকান সস্তাপুর, হাজীগঞ্জ, কুতুবপুর সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিকের ১, ২, ৩, ৭, ৮, ৯, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফতুল্লার পৌষাপুকুর ও লালপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র ভয়াবহ। 

এ বিষয়ে ফতুল্লার মধ্য ইসদাইর এলাকার ডিএনডির বাসিন্দা সুতা ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, বাসার সামনে হাঁটুপানি। বাসা থেকে বের হব যে, কোনো রিকশাও পাচ্ছি না। ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলাল মাস্টারের ছেলে রাকিব জানান জানান, এত পানি এলাকার মানুষ আর কখনো দেখেনি। ভয়াবহ পরিস্থিতি এলাকার। সব ডুবে গেছে। এ বিষয়ে ফতুল্লা ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আউয়াল হোসেন জানান, এটা জলাবদ্ধতার পানি। নেমে যাবে। মূলত একটা সময় ডিএনডির পুরো এলাকা খালি ছিল। সেই খালি জায়গা দিয়ে বৃষ্টির পানি অনায়াসে নেমে যেতে পারত। এখন যেভাবে বাড়িঘর করা হয়েছে তা অপরিকল্পিত। বিভিন্ন স্থানে খালগুলো দখল করে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। তাই পানি নামতে একটু সময় লাগবে। তিনি আরো জানান, ফতুল্লার ইসদাইর গাবতলী এলাকা সবচেয়ে বেশি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো—লালপুর, সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন এলাকার পানি এ দুটি এলাকা দিয়ে রেললাইন খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। তবে নিষ্কাশনব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে একটি পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

এদিকে শহরের সিটি করপোরেশন এলাকার গলাচিপা, মাসদাইর, গুদারাঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ড্রেন আর বৃষ্টির পানি এলাকার হয়ে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃৃষ্টিতে শহরের রাস্তায় হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়।

এ বিষয়ে শহরের গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ মোল্লা জানান, এত উন্নয়ন কর দিই। নাগরিক সুবিধা তো পাচ্ছিই না, এরপর কিছুদিন পরপর সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, টানা ৪৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডিএনডির যে যে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে তা কেন হয়েছে এবং দ্রুত কিভাবে নিষ্কাশন করা যায় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ পাম্প হাউজের নির্বাহী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন জানান, পাম্প হাউজে চারটি পাম্প চলছে। ডিএনডিতে পানির লেয়ার কম। খুব শিগিগরই পানি নেমে যাবে। এ বিষয়ে ডিএনডি প্রজেক্ট অফিসার মেজর গাজী নাজমুল হাসান বলেন, ডিএনডির যেখানে খালগুলো সরু হয়ে আছে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে সেই স্থানগুলোকে চিহ্নিত করতে মাঠে আমাদের টিম কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রায় সাতটি পাম্প চলছে। শিবু মার্কেট, পিটালিরপুল, পাসপোর্ট অফিস ও মৌচাক এলাকার পানি নিষ্কাশনের বৃহত্ পয়েন্টে পানি নিষ্কাশন দ্রুত করার কাজ চলছে।

প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এর আগে, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালে একনেক সভায় ডিএনডি প্রকল্পের জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প পাশ হয়। পরবর্তী সময়ে ডিএনডি এলাকায় নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে (দ্বিতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধনী) বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনুমোদন নিয়ে আসেন এমপি শামীম ওসমান। কার্যক্রম চলাকালীন প্রায় সাড়ে ৩ বছরে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৫০.৬৫ শতাংশ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি