শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সিত্রাংয়ে আরো ঝুঁকিপূর্ণ দুর্বল বাঁধগুলো

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০৪:০৩

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, আর কপাল পোড়ে উপকূলবাসীর। এ থেকে যেন মুক্তি নেই তাদের। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে এবারও খুলনা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ২০ কিলোমিটার নদীর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগে থেকেই দুর্বল বাঁধগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ভেঙে লোনা পানিতে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আঘাত হানার আগের দিন গত ২৪ অক্টোবর ভোরে সুন্দরবন-সংলগ্ন কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদের প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে যায়। ধসে যাওয়া বাঁধ এক বছর আগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। বছর না ঘুরতেই ধসে যাওয়ায় কাজের মান নিয়ে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হরিণখোলা গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, বাঁধের পাশের নদী থেকে বালি তুলে বাঁধ নির্মাণ করায় জোয়ারের পানির চাপে সহজে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ যতদিন নির্মাণ করা না হবে, ততদিন উপকূলবাসীর কপাল পুড়তেই থাকবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম শেখ বলেন, গত বছর কপোতাক্ষ নদ থেকে বালি উত্তোলন করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। নদীর ঢেউ লেগে বাঁধের তলার মাটি সরে যাওয়ায় বালির রাস্তা ধসে গেছে। তিনি আরো বলেন, বাঁধটি পরিকল্পিতভাবে না করায় টেকসই হয়নি। নদীতে ড্যাম্পিং করে বালি ভরাট ও ব্লক ব্যবহার করলে রাস্তা নষ্ট হতো না।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, নদীশাসন ছাড়া শুধু বাঁধ নির্মাণ হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেটি আবারও নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাঁধের পেছনে শত কোটি টাকা খরচের আগে নদীশাসন জরুরি। কিন্তু এই অঞ্চলের পানি-মাটিতে বেড়ে ওঠা গ্রামের মানুষের কথাকে কখনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীর বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপের খলিসা ও খনা নামক স্থান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে মেরামতের কাজ চলছে।

খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর আওতায়। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, কয়রার হরিণখোলা, শাকবাড়িয়াসহ কিছু অংশ আংশিক ও কিছু অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এবার বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেনি।

 

ইত্তেফাক/ইআ