শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আইসিডিডিআর,বি-র গবেষণা

উল্লেখযোগ্য হারে একাধিক অনুপুষ্টিকণা ঘাটতিতে ভুগছেন নারী-শিশু

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২, ২০:০৩

উল্লেখযোগ্য হারে একাধিক অনুপুষ্টিকণা ঘাটতিতে ভুগছেন নারী ও শিশু এবং প্রজননক্ষম নারীর ভিটামিন ডি স্বল্পতা উদ্বেগজনক-এক গবেষণায় এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো ৭০শতাংশ নারীর মধ্যে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পাওয়া গেছে।

রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টি সেবা (এনএনএস) এবং আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে দ্বিতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপ ২০১৯-২০ এর ফলাফল শীর্ষক এক সেমিনার এ তথ্য প্রকাশ করে। ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত এই সেমিনারে আইসিডিডিআর,বি-র বিজ্ঞানী ড. আলিয়া নাহিদ এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নন অথবা যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না এমন মহিলাদের এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের অভাব রয়েছে।অনূর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুদের খনিজ পদার্থের ঘাটতির মধ্যে জিংক ৩১শতাংশ, আয়োডিন ২০শতাংশ এবং আয়রন ১৫শতাংশ। আবার ভিটামিনের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, শিশুদের মধ্যে ২২শতাংশ ভিটামিন ডি এবং ৭শতাংশ শিশুর মাঝারি মাত্রার ভিটামিন এ এর ঘাটতি আছে। ১ম জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সার্ভে ২০১১-১২ এর ফলাফলের সাথে তুলনা করে দেখা যায় যে, শিশুদের তিনটি সূচকের (ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি এবং জিংক) জন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতির অবস্থা উন্নত হয়েছে। কিন্তু আয়রনের ঘাটতির মাত্রা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই জরিপে প্রথমবারের মতো ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আয়োডিনের বিষয়টি গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, এতে দেখা গেছে ২০শতাংশ শিশুদের মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি ছিল। গর্ভবতী নন অথবা যারা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না তাদের মধ্যে জিংকের ঘাটতির পরিমাণ ৪৩শতাংশ ও ৩০শতাংশ, আয়োডিনের, ২৯শতাংশ। ২০শতাংশ নারীর ভিটামিন বি১২ এর অভাব আছে। ২০১১-১২ সালে পরিচালিত ১ম মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, নারীদের মধ্যে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতির অবস্থা তিনটি সূচকে (জিংক, আয়োডিন এবং ভিটামিন এ) উন্নতি হয়েছে, দুইটি সূচকে (আয়রন, ফোলেট) আরো অবনতি হয়েছে এবং দুইটি সূচকে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তাছাড়াও গবেষণা মতে ২১শতাংশ  শিশু এবং ২৯শতাংশ মহিলাদের (গর্ভবতী নন এবং যারা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না)  বিভিন্ন মাত্রার রক্তস্বল্পতা আছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্¿ণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য উইং) সৈয়দ মজিবুল হক। তিনি গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়ে নারী ও শিশুদের মধ্যে ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতিগুলো সমাধান করার জন্য বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচী নেয়ার ওপর জোর দেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডিরেক্টর ডাঃ মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ঘাটতির এই ফলাফল শিশু এবং নারীর জন্য জাতীয় পুষ্টি সেবা কর্তৃক পরিচালিত সম্পূরক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

এই গবেষণার প্রাধান গবেষক ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, এই গবেষণায় নতুনভাবে বের হয়ে এসেছে যে, বাংলাদেশে নারী ও শিশু কোন ভিটামিন এবং খনিজগুলো গুরুতর অভাব রয়েছে যা বাংলাদেশে পরবর্তী ৫ম হেলথ সেক্টর প্রোগ্রামসহ অন্যান্য পুষ্টি কর্মসূচীগুলো প্রণয়ন করার জন্য নীতিনির্ধারকদের নতুন দিকনির্দেশনা দিবে। তবে, পুষ্টি কর্মসূচী কার্যক্রম অগ্রগতি জানার জন্য গবেষণার মাধ্যমে নিয়মিত মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারে আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, আমি আশাবাদী যে এই সমীক্ষার ফলাফল খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল প্রণয়নে এবং কার্যক্রম গ্রহণে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় ৫ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু এবং ১৫-৪৯ বছর বয়সী গর্ভবতী নন অথবা যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না এরকম নারীর (নন প্রেগন্যান্ট ও নন ল্যাকটেটিং-এনপিএনএল) ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, জিংক, ফেরিটিন, আয়োডিন এবং অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা জানার জন্য বাংলাদেশে দ্বিতীয় বারের মতো জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সার্ভে ২০১৯-২০২০ পরিচালনা করে।

এছাড়াও,এই নারীদের ভিটামিন বি১২ এবং ফোলেট ও পরিমাপ করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দৈব চয়নের ভিত্তিতে প্রদত্ত ৮টি বিভাগের ২৫০টি উপজেলায় এই জরিপটি পরিচালনা করে আইসিডিডিআর,বি। 

 

ইত্তেফাক/বিএএফ