রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হয়রানিমুক্ত হলো নার্স বদলি 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুপারিশ করলে সাত দিনের মধ্যে হবে বদলি

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০০:৩৮

নার্সদের বদলিতে দীর্ঘদিনের হয়রানি অবশেষে বন্ধ হলো। নয়া মহাপরিচালক হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেন। এখন থেকে নার্সদের বদলি নিয়ে দুর্নীতি ও হয়রানি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়ে দেন। এখন থেকে নার্স বদলির ক্ষেত্রে একটি ছক তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তরে সুপারিশ করলে সাত দিনের মধ্যে হয়ে যাবে বদলি। বদলির জন্য এখন কাগজ নিয়ে ঘুরাঘুরি করতে হবে না কারোর। 

সম্প্রতি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃক নার্সদের বদলি/সংযুক্তি/পদায়ন জনিত সমস্যা নিরসনে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যা বিগত দিনে নার্সদের বদলিজনিত সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর মনে করছেন। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে নার্সদের পারস্পরিক বদলি ও একক বদলির কার্যক্রম কোন ধরনের জটিলতা ছাড়া সমাধান হবে। আগে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বদলি হলো। এক্ষেত্রে অর্থের লেদদেনসহ নানাভাবে নার্সদের হয়রানি করা হতো। এখন থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোন বদলি হবে না। 

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের একাধিক সাবেক মহাপরিচালক ও একজন সাবেক পরিচালক নার্সদের  বদলির কার্যক্রম নষ্ট করেছিলেন। বদলি ও প্রশিক্ষণের নামে চলেছে রমরমা বাণিজ্য। প্রতিটি পোস্টিংয়ে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার ঘুষ দিতে হয়। এতে নার্সিং সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। জামায়াত-শিবির সমর্থিত একটি গ্রুপ নিয়ন্¿ণ করতো নার্সদের বদলি ও প্রশিক্ষণ। কোন কোন ড্রাইভার ও পিয়ন যেদিন প্রশিক্ষণ হতো সেদিন দুই হাজার থেকে তিন হাজার করে টাকা পেতেন। বদলি সিন্ডিকেটে জড়িত অনেক ড্রাইভারসহ একাধিক পিয়নও কোটিপতি। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এ ব্যাপারে রিপোর্ট দিয়েছিল। মন্¿ণালয়ের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ছিল, যারাও টাকার বিনিময়ে নার্সদের বদলি করতে এক সাথে ২০/৩০ জনের তালিকা অধিদপ্তরে পাঠাতেন। দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক এক বৈঠকে এসব রিপোর্ট উপস্থাপন করে নার্সদের বদলিতে হয়রানি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোন ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। নার্সিং সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানদন্ডে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। ওই বৈঠকে সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নার্স বদলিতে স্বচ্ছতার ছক প্রণয়ন করে দেওয়া হয়। 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ১৪ বছরে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার নার্স এবং ৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে এই উদ্যোগ। দক্ষ শিক্ষক গড়তে জাতীয় পর্যায়ে নার্সিং মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে নার্সিং অধিদপ্তর। প্রস্তাব করা হয়েছে স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে স্টাইপেন বৃদ্ধিসহ প্রতি বছর কৃতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির প্রথা চালু করা হয়েছে। গত দুই অর্থবছরে পিএইডি ডিগ্রী অর্জনের জন্য ৫ জনকে দক্ষিণ কোরিয়া, ৩ জনকে থাইল্যান্ড ও ৪ জনকে জাপানে পাঠানো হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি গবেষণা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে ইতিমধ্যে অধিদপ্তরে চালু করা হয়েছে গবেষণা ও মনিটরিং সেল, এমনকি নার্সদের প্রাপ্য সিলেশন গ্রেড এবং ৯ম গ্রেড থেকে ৮ম গ্রেডে বেতন স্কেলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে নার্সিং অধিদপ্তর। বর্তমানে  নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাশেদা আকতার খুবই সত্ ও পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম নার্সিং সেক্টরে উন্নয়নের সু-বাতাস বইছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এখন সম্পূর্ণ আধুনিক ডিজিটাল ও যুগপোযোগী। স্বাস্থ্য সেক্টরে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় যে কয়টি পেশার মানুষ সরাসরি জড়িত তাদের মধ্যে নার্সরা অন্যতম। সরকারি হাসপাতাল গুলোতে সেবা দানের ক্ষেত্রে নার্সরা একটি অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে দিন দিন। 

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সেবায় এ দেশের নার্স ও মিডওয়াইফগণ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্ভীক যোদ্ধা হিসেবে সদা নিয়োজিত থেকে কাজ করেছেন। বর্তমানেও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে নার্সদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এরই ধারাবাহিকতায়  সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।  
 
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে নতুন যোগদানকৃত মহাপরিচাক রাশেদা আকতার বলেন, বাংলাদেশের নার্সিং পেশার মান উন্নয়নের জন্য সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি উচ্চ শিক্ষত নারীদের এই পেশায় আনার নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সদের তৃতীয় শ্রেনী থেকে দ্বিতীয় শ্রেনী পদমর্যাদা প্রদান করে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন যা নার্সিং অধিদপ্তরসহ নার্সিং সমাজ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি