যশোর পৌরসভার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শহরের অন্তত ৮০টি সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অবস্থা খুবই নাজুক। সাম্প্রতিককালে সড়ক উন্নয়নে তেমন কোনো কাজই হয়নি। আগের মেয়রের করা সব সড়কই ভেঙে গেছে। এতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন পৌরবাসী।
বেহাল ৮০টি সড়কের মধ্যে ১০টি সড়ক সংস্কারের জন্য ৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়। অন্য ৭০টি সড়ক সংস্কারসহ ড্রেন ও সড়কবাতি বসানোর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এনবিএসপি নামে প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
যশোর পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌর এলাকায় মোট ২৮৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বিটুমিনের কার্পেটিং ১৭৬ কিলোমিটার, কংক্রিটের ৩০, ইটের ৫১ ও মাটির কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৩০ কিলোমিটার। এছাড়া সড়কের সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন ড্রেন রয়েছে মোট ২৫২ কিলোমিটার। এর মধ্যে আরসিসি ৫৫ ও ইটের ৬১ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে।
একটু বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের প্রধান গেটের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। পানি জমার কারণে বিটুমিনের আস্তরণ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ খড়কী এলাকার মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়। সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তার প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেন। বেজপাড়া চোপদারপাড়া সড়ক বেজপাড়া তালতলা মোড় থেকে শুরু হয়ে সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের সামনে রেল সড়ক, শংকরপুর রেললাইন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে। এই সড়কে বিটুমিনের আস্তরণ উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে দুই মাস আগে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপিও দেওয়া হয় পৌর মেয়রের কাছে। কিন্তু কাজ হয়নি কিছুই। এই এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শহরে প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক এটি। জেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়, যশোর কলেজ ও যশোর মেডিক্যাল কলেজে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ চোপদারপাড়া সড়কে পয়োনিষ্কাশনের ড্রেনের অবস্থাও ভালো না। দুই যুগের মধ্যে এই সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌরকর্তৃপক্ষ।
শহরের কারবালা ধর্মতলার সড়কটি বছরের পর বছর সংস্কার করা হয় না। একসময়কার পিচের রাস্তাটি এখন ইটের ভাঙা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ষষ্ঠিতলার বসন্ত কুমার রোডের অবস্থা এতটাই খারাপ একটু বৃষ্টিতেই ড্রেনের ময়লা পানিতে গোটা সড়ক ছয়লাব হয়ে যায়। গুরুদাস বাবু লেন (পাইপপট্টি-ফায়ার সার্ভিস) এবং বকচর হুশতলা মোড় থেকে নীলগঞ্জ যাওয়ার সড়ক দুই বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছিল পৌরকর্তৃপক্ষ। কিন্তু সড়ক দুটির অবস্থা এখন বেহাল। পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে সেখানে কাদা-পানি জমে জলমগ্ন হয়ে থাকে। বেজপাড়া মেইন রোডের ভাষাসৈনিক আমির আহমদ বাইলেন সড়ক, তার বিপরীতে সড়ক ও মসজিদ সড়কটি ৩০ বছর আগে ইটের সলিং করা হয়েছিল। সেই অবস্থাই রয়েছে সড়কগুলো। এখন ইট উঠে গিয়ে সড়কগুলোর বুকে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে দেবেও গেছে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বয়কারী মাসুদুজ্জামান মিঠু বলেন, যশোর পৌর শহরের অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে আঞ্চলিক বা গলি সড়কগুলো খুবই খারাপ। যশোর পৌরসভার প্যানেল মোকসিমুল বারী অপু বলেন, হরিনার বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশন হয় না। বিটুমিনের প্রধান শত্রু পানি। সড়কে পানি জমে বিটুমিন উঠে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য চার কিলোমিটার একটি খাল কেটে শহরের পানি মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে বের করে দেওয়ার প্রস্তাব এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে দিয়েছি। এটা হলে টেকসই উন্নয়ন হবে।
