কার্তিকেই শীতের হাতছানি, প্রতিদিন কমছে তাপমাত্রা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০১

মধ্য কার্তিকেই তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। আসছে শীত। ইতিমধ্যে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। সকালের আকাশ অনেকটাই ঘোলাটে থাকে। শেষরাতের দিকে অথবা প্রভাতবেলায় শিরশিরে ঠান্ডার অনুভূতি। শেষরাতে একটা কিছু গায়ে না জড়িয়ে আরামে ঘুমানো যাচ্ছে না। রাজধানী ঢাকাতেই এমন অবস্থা। শীত যে পড়ছে তা রাজধানী ঢাকার ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান দেখলেই বোঝা যায়। সেখানে বাহারি রঙের এবং বিভিন্ন ডিজাইনের নতুন ও পুরোনো গরম কাপড় বিক্রি হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঠান্ডা অনুভূতি একটু বেশি। বেশি শীত পঞ্চগড় জেলায়। ইতিমধ্যে তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। গতকাল ছিল ১৭ ডিগ্রি। এক দিনে এক ডিগ্রি কমেছে।

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে শরৎ বিদায় নিয়েছে এই কদিন আগেই। শিশির বিন্দুতে সাদা কাশফুলের রংও এখন হয়ে উঠেছে ধূসর। এরই মধ্যে মিলছে শীতের আগমনি বার্তা। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের পর থেকে ক্রমেই নামছে পারদ। কমে গেছে অসহ্য গরম। ভোরে ও সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে গ্রাম ও শহুরে প্রকৃতি। শেষ রাতের হিমেল পরশ আর সকালের নরম রোদের আবেশ জানান দিচ্ছে—হেমন্তের হাত ধরেই ক্রমশ আসছে শীত। এমন অসময়ে শীত নামেনি যেন অনেক বছর। আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশ বৃষ্টি শূন্য ছিল। হেমন্তের এই আবহাওয়ায় প্রতিদিনই কমছে দেশের তাপমাত্রা। গতকাল সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার কারণে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া আসতে শুরু করে। এই হাওয়াকে ঠেকানোর জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে কোনো বিপরীত বায়ু প্রবল থাকে না। আবার এ সময় আকাশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া জেটস্ট্রিম অনেকটা নিচে নেমে আসে। এ বায়ু খুবই ঠান্ডা। জেটস্ট্রিমের ঠান্ডা বায়ু যত নিচে নামবে আমাদের দেশে তত বেশি শীত পড়বে। তাছাড়া পৃথিবীর আবর্তনের কারণে শীতকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধ থেকে অনেক দূরে সরে যায়। ঠিক বিপরীত দিকে দক্ষিণ গোলার্ধের কাছে থাকে সূর্য। সে কারণে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো দিনের বেলা যে তাপ পায় তা সন্ধ্যা নামার পরপরই ঠান্ডা হয়ে যায়। রাত যত বাড়তে থাকে ঠান্ডা তত বাড়ে।

আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, আগামী ৪-৫ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের তাপমাত্রা এমনই থাকতে পারে। এরপর দক্ষিণাঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ভৌগোলিক কারণে উত্তরবঙ্গে শীত আগে পড়ে। হিমালয় থেকে সবার আগে বাতাস প্রবেশ করে উত্তরবঙ্গ দিয়ে। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে মধ্যবঙ্গ হয়ে দেশের দক্ষিণ প্রান্তে প্রবাহিত হয়। আর তাই উত্তরবঙ্গে সবার আগে ও দেশের অন্যান্য এলাকায় ধীরে ধীরে শীত ছড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, হিমালয় থেকে আসা বায়ু শীতল হয়ে থাকে। আর এই বাতাসের কারণে দেশে শীতের আগমন ঘটে। মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে শীতের এই বাতাস প্রবেশ করে থাকে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং প্রভাব শেষ হয়ে যাওয়ার পর শীতের আগমন শুরু হয়েছে। ড. আশরাফ আরো বলেন, সবার শেষে শীত অনুভব হবে দেশের দক্ষিণবঙ্গে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়।

উত্তরাঞ্চলে ধুলাদূষণের প্রভাবে সর্দিকাশি, আমাশয় ও নানা ধরনের রোগব্যাধির সংক্রমণ বাড়ছে। ঢাকা মহানগরীর নিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রির কোঠায় ওঠানামা করছে। গতকাল সকালে আবহাওয়া অফিসের আগারগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহের তাপমাত্রা কমেছে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া নভেম্বরের মাঝামাঝি পুরো শীতের আমেজ পাওয়া যাবে বলে জানা যায়।

  • বঙ্গোপসাগরে স্বাভাবিক লঘুচাপ

মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

 

 

ইত্তেফাক/ইআ