ব্রিজ ধসের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৪০

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের মোরবি জেলায় একটি ঝুলন্ত সেতু ধসে শতাধিকের বেশি লোকের প্রাণহানি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঔপনিবেশিক আমলের সেতুটি মেরামতের পর আবার খুলে দেওয়ার কয়েকদিন পর রোববার (৩০ অক্টোবর) মাচ্ছু নদীতে ধসে পড়ে। মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) নদীতে পুনরায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

উদ্ধার কাজ চলছে

এ ঘটনায় সেতু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুক্তিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীসহ নয়জনকে আটক করা হয়েছে। মাচ্চু নদীর উপর ২৩০ মিটার (৭৫৪ ফুট) সেতুটি ১৯ শতকের ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল।

সেতুটি একটি প্রধান স্থানীয় পর্যটন আকর্ষণ ছিল। রাজ্যের পর্যটন ওয়েবসাইট সেতুটিকে 'শৈল্পিক ও প্রযুক্তিগত বিস্ময়' হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মেরামতের জন্য কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহে সেতুটি পুনরায় চালু হয়েছিল।

ঝুলন্ত সেতু ধসে শতাধিকের বেশি লোকের প্রাণহানি

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার স্থানীয় সময় প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিয়ে সেতুটি ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিশৃঙ্খলার দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। লোকেরা ধ্বংসস্তূপের সঙ্গে আটকে ছিল। তারা বাঁচার জন্য উদ্ধারকারী দলের জন্য অপেক্ষা করছিল। কেউ কেউ সাঁতরে নদীর তীরে যাওয়ার চেষ্টা করে বাঁচতে পারলেও দ্রুত গতির পানিতে ভেসে যায় অনেকে।

সোমবার পুলিশ জানিয়েছিল, কমপক্ষে ১৪১ জন নিহত হয়েছেন। কিন্তু পরে আপডেট করা টোলের কারণ না জানিয়ে সেই মৃতের সংখ্যা ১৩৫ জানানো হয়। নিহতদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।

সন্ধ্যা নাগাদ উদ্ধারকারীরা কাজ করে যাচ্ছে

সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ উদ্ধারকারীরা ১৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার কর্মীরা। রাতের জন্য অনুসন্ধান অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল তবে মঙ্গলবার সকালে আবার উদ্ধার কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত অন্তত ১৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, যতক্ষণ না প্রত্যেকের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন। 

প্রধানমন্ত্রী মোদি গুজরাটের সন্তান। তার জন্ম এখানে। তিনি এই দুর্ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত। বুধবার (২ অক্টোবর) রাজ্যে এক দিনের শোক ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। 

  

ইত্তেফাক/ডিএস