টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে ১১ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টিতে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও ভারত এগিয়ে যোজন যোজন। যদিও বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের দৌড়ে রয়েছে টিম টাইগার্স তবুও শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে আজকের ম্যাচে ফেভারিট ভারতই।
তবে ফেভারিটের তকমা গায়ে নিয়েই এলেই যে জয়ী হয়ে যাবে ভারত এমন তো নয়, আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে এমনই এক বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেভারিট ভারতকেই নাকানি-চুবানি খাইয়ে হারিয়ে দিয়েছিলো বাংলাদেশ। টাইগারদের সেই জয়ের মূল কারিগর ছিল সাবেক টাইগার অধিনায়ক আর তখনকার তরুণ মাশরাফি বিন মর্তুজা।
২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভারতের মুখোমুখি হয়েছিলো হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে মাশরাফিসহ পুর দলই যেন পণ করে নেমেছিলো ভারতকে হারাবে বলে। তবে ভারতীয় শিবিরে আগুনটা ধরিয়েছিলো মাশরাফিই। পোর্ট অব স্পেনে সেদিন নড়াইল এক্সপ্রেসের আগুন ঝরা বোলিংয়ে ভারতকে যেন বলে কইয়ে হারিয়েছিলো লাল সবুজের জার্সিধারীরা।
টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে যেমন সর্বসাকুল্যে জয় একটা, সব বিশ্বকাপ মিলিয়েও তেমন ভারতের বিপক্ষে ওই একটি জয়ই সম্বল। আর সেই জয়ের নায়ক এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি।
২০০৭ বিশ্বকাপের ভারতকে বলে কয়ে হারানোর কারিগর, তার এক ‘ধরে দিবানি’র হুঙ্কারেই সেদিন কেঁপে উঠেছিলো ভারতীয় শিবির। পোর্ট অব স্পেনের সেই ম্যাচের শুরুতেই বীরেন্দ্র শেবাগের স্ট্যাম্প উপড়ে মাশরাফি জানিয়ে দিয়েছিলেন আজ বাংলাদেশ জিততেই এসেছে।
ভারতের বিপক্ষে সেদিন আগুন ঝরা বোলিংয়ে শুরুটা করেছিলেন মাশরাফি, আর তুলির শেষ আচড় দিয়ে জয়টা তুলে নিয়েছিলেন মুশফিক, তামিম আর সাকিব মিলে। আজ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাঠে নামবে সেই সাকিবের নেতৃত্বেই। তবে ভারতীয় শিবিরে ধ্বংসযজ্ঞের মূল নায়ক হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও উঠেছিলো নড়াইল এক্সপ্রেসের হাতেই।
আজ অ্যাডিলেডে ভারতের বিপক্ষে আরেকটি মহারণের আগে তাই ঘুরেফিরেই আসছে মাশরাফির নাম। চিত্রাপাড়ের কৌশিক থেকে মাশরাফি সেদিন যেমন হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের হৃদয়, আজ কি তেমন কেউ পারবেন ভারতীয়দের চোখে চোখ রেখে বলতে ‘ধরে দিবানি’? আছেন একজন, মাশরাফিকেই যিনি নিজের আদর্শ মনে করেন, নিজের বড় ভাই হিসেবেই মাশরাফির নামটি যিনি বারবার বলে গেছেন, সেই তাসকিন আহমেদ।
২০০৭ এর নড়াইল এক্সপ্রেস থেকে আজকের ঢাকা এক্সপ্রেস। ভারতের বিপক্ষে আরেকটি মহারণের আগে তাসকিন আভাসও দিয়েছেন অ্যাডিলেড ওভালে গতির ঝড় তোলার। বিশ্বকাপের তিন ম্যাচেই শুরুর ওভারে উইকেট এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ওভার বাদ দিলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বোলিং দিয়ে আগুন ঝরিয়েছেন তাসমান পাড়ের দেশে। বাংলাদেশের দুই জয়েই হয়েছেন ম্যাচসেরা।
আজ ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে বা মাঠের লড়াইয়ে তাসকিনের মধ্যেই সেদিনের মাশরাফিকে খুজবেন এদেশের ক্রিকেট পাগল জনতা। শুধু জনতা নয়, টাইগার অধিনায়ক সাকিবের কাছেও ভরসা সেই তাসকিনই। ২০০৭ এ নতুন দলে আসা সাকিব দেখেছিলেন বড় ভাই মাশরাফির আগ্রাসন, আর আজ নিজের নেতৃত্বে তাসকিনের কাছ থেকেও তেমন আগ্রাসনই চান সাকিব।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফির সেই সোনালী দিনগুলো এখন অতীত। তারপরে টাইগার পেস ব্যাটারির দায়িত্ব কে সামলাবেন সেটির উত্তরও দিয়েছে সাকিব। অধিনায়কের চোখে, মাশরাফির পর বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতা হয়ে উঠেছেন তাসকিনই। ঢাকা এক্সপ্রেসের কাঁধেই উঠবে পেস আক্রমণের ব্যাটন।
তাসকিন কি পারবেন আজ ক্রিকেট পাগল জনতার আস্থার প্রতিদান দিতে, অধিনায়কের ভরসা হয়ে উঠতে? তাসকিন কি পারবেন ‘ধরে দিবানি’র হুঙ্কার দিয়ে আরেকজন মাশরাফি হয়ে উঠতে?
