বিলবোর্ড-ব্যানারে ছেয়ে গেছে নগরী

অবরুদ্ধ বরিশালে বিএনপির উৎকণ্ঠার গণসমাবেশ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ২২:৩২

বরিশালে বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বরিশাল। যানবাহন শূন্য বরিশালে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মহড়াকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উভয় পক্ষ নিজেদের পক্ষে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ায় যেকোনো সময় সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

এছাড়াও এসকল শো-ডাউনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে লাঠিসোটাও দেখা গেছে। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাস পরবর্তীতে তিন চাকার বাহন (থ্রি-হুইলার ও ইজিবাইক) বন্ধ ঘোষণার পর অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচল এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে সকল প্রকার যানবাহন বরিশালে প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাস, নৌযানসহ অন্যান্য যানবাহনের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন দাবীতে এ বন্ধ ঘোষণা চলাকালে শুক্রবার সকাল থেকেই বরিশাল নগরী যানবাহন শূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও নগরীর প্রবেশদ্বারগুলোতে পুলিশের চেকপোস্টে ব্যাপক তল্লাশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল সহ রিকসা-ভ্যানে যাতায়াতকারীদের এসব চেকপোস্টে ট্রাফিক বিভাগ কাগজ-পত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। সমাবেশের দু’দিন পূর্বেই বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা গণসমাবেশস্থল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ইতিমধ্যেই জড়ো হয়েছেন। 

বিএনপি’র বিভাগীয় গনসমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে নগরীতে মিছিল বের করে ছাত্রদল --- ইত্তেফাক

দূর দূরান্ত থেকে আসা এসব নেতা-কর্মীরা জানান, যানবাহন ও লঞ্চ বন্ধের খবর পেয়ে আগে ভাগেই তারা সমাবেশস্থলে পৌঁছে গেছেন। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগতরা যার যার নেতৃত্বে এসেছেন তারা সমাবেশস্থলেই রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এসব নেতা-কর্মীদের আর বাড়তি চিন্তা করতে হচ্ছে না। 

সমাবেশস্থলে থাকা বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ইত্তেফাককে বলেন, সমাবেশস্থল ইতিমধ্যেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। শত বাধা উপেক্ষা করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছেন। 

মীর জাহিদ আরও বলেন, চাইলে এই মুহূর্তেই (শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা) সমাবেশ করা সম্ভব। কেননা বিকেলে আকাশপথে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানসহ অন্যান্যরা এসে পৌঁছেছেন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং দলের মহাসচিবসহ অন্যান্য অতিথিরা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। 

এদিকে সন্ধ্যা ৭টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বঙ্গবন্ধু উদ্যান জুড়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অবস্থান। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু উদ্যানের প্রবেশদ্বারের সকল সড়কে নেতা-কর্মীরা অবস্থান করায় সেখান থেকে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

বিএনপি নেতারা জানান, পরিবহন সেক্টরগুলোর নেতৃত্বস্থানীয়রা সবাই সরকারি দলের পদধারী নেতা। তাদের উদ্দেশ্যে তো বিএনপিকে দমন করাই। প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমাদের পথরুদ্ধ করতে নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হচ্ছে সমাবেশ বানচাল করতে। 

বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরী বিলবোর্ড ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। সমাবেশস্থলের সামনের বান্দরোডের সামনের চিত্র --- ইত্তেফাক

বিএনপি’র মিডিয়া সেলের আহবায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণসমাবেশ সফল করতে বিগত এক মাস যাবত বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এসব কার্যক্রম কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ অঙ্গসংগঠনের সভাপতি-সম্পাদকগণ উপস্থিত থেকে দেখভাল করেছেন। তারা অবস্থান নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সমাবেশস্থলের নানান দায়িত্বে রয়েছেন। 

বিলবোর্ড-ব্যানারে ছেয়ে গেছে নগরী

বিএনপি’র গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরী বিলবোর্ড ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ সফলের শ্লোগান দিয়ে ছবিযুক্ত বিলবোর্ডে ছেয়ে ফেলেছে বরিশাল নগরীকে। সমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যান ও পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোর দুই পাশে, বান্দরোড, জিলা স্কুলের মোড়, সদর রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও সদর রোডে বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। বিএনপি নেতাদের দাবী গত দু’দিন ধরে বেশ কিছু এলাকার বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি বিএনপির সমাবেশ বাধাগ্রস্থ করতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার ভাঙচুর করেছে। এছাড়াও অনেক বিলবোর্ড ও ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়েছেও বলে দাবি তাদের। ছাত্রদল কর্মীরা জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে এসে আমাদের নেতাদের ব্যানার ভাংচুর করেছে, ছিড়ে ফেলে বিভিন্ন জায়গার পোস্টার।

বিএনপি’র গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরী বিলবোর্ড ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনের দৃশ্য --- ইত্তেফাক

এ প্রসঙ্গে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, সদর রোড টাউন হলের সামনে যেখানে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে সকল ধরনের ব্যানার ফেস্টুন লাগানো নিষেধ সেখানে এমনকি শহরের প্রতিটা স্থানে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়েছে বিএনপি। আমি চাইলে এক সেকেন্ডের মধ্যে তা অপসারণ করতে পারি। কিন্তু আমি বা আমার লোক কেউই তা করি নাই। 

সিটি মেয়র আরও বলেন, ১১ তারিখ যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি তাই আমরা নগরীতে মিছিল করছি। আমাদের এ মিছিল ১০ তারিখ রাত পর্যন্ত চলবে। আমরা যদি ৪ তারিখ মিছিল করে বন্ধ করি তাহলে বিএনপি ভাববে তাদের অবস্থানের জন্য আমরা মিছিল বন্ধ করছি। বরিশালে আমাদের অবস্থান কেমন তা গোটা দেশ জানে। এসময় তিনি আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল চালিয়ে যেতে বলেন। 

ইত্তেফাক/এমএএম