সাদামাটির ধুলোময় মেঠোপথ এখন আর চোখে পড়ে না। তাঁতপ্রধান আড়াইহাজার উপজেলাজুড়ে কালো রঙয়ের পিচঢালা পথই বলে দেয় উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করেছে এই গ্রামীণ জনপদ।
আড়াইহাজার উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুর সহযোগিতায় গত এক বছরে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৫০০ কোটি টাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বদলে গেছে আড়াইহাজার উপজেলার গ্রামীণ জনপদের চিত্র। উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে উপজেলার সর্বত্র। যেখানে নতুন নতুন প্রকল্পের পাশপাশি রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও সম্পন্ন হয়েছে নিপুণভাবে। ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট মেরামত করা হয়েছে। উপজেলার উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এলজিইডি।
ঢাকা বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সড়কসমূহ শক্তিশালী করার আওতায় বরাদ্দ হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া সামাজিক অবকাঠামো, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও কবরস্থান সংস্কারে ২ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। আড়াইহাজারবাসীর জন্য ‘আমার গ্রাম, আমার শহর প্রকল্প’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। সে জাতীয় সকল সড়ক পাকাকরণ করা হবে।
সিআরডিপি: সিটি রিজিয়ন ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে আড়াইহাজার উপজেলায় ৩৫০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এ সকল কাজের মধ্যে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও সৌন্দর্যবর্ধন রয়েছে। এছাড়া সম্পন্ন হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন ড্রেন ও বাজারের অভ্যন্তরীণ সংস্কারকাজ।
জি ডি পি-৩: প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল-বিল ও পুকুর সংস্কার এবং খনন করা হয়েছে।
জি ডি পি-৪: প্রকল্পের আওতায় রাস্তাঘাট ও ব্রিজ সংস্কার ও নির্মাণকাজ করা হয়েছে। বিনাইর চর থেকে কামরানির চর পর্যন্ত বড় রাস্তাটি নির্মিত হওয়ায় গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। তাছাড়া আড়াইহাজার থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে।
আই আর আই ডি পি: এই প্রকল্পের আওতায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাঘাট সংস্কার করা হয়েছে।
আর পি আই পি-৩: এর আওতায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি বড় রাস্তার কাজ চলমান। এই সড়কগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রামের মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমানের মতে, এক সময়ের তাঁত ও বর্তমানে বিভিন্ন শিল্প অধ্যুষিত এ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রামেই নির্মিত হয়েছে অসংখ্য পাকা রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট। পূর্বের ভাঙাচোরা সড়কের জায়গায় বর্তমানে নির্মিত পাকা রাস্তায় চলছে আধুনিক সব যানবাহন। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের উন্নয়নের ফলে ঘোরপল্লী থেকে যানবাহনে চড়ে গন্তব্য যাচ্ছে মানুষ।
কৃষকরা তাদের খামারে উৎপাদিত দুধসহ নানা কৃষিপণ্য মিল-কারখানা ও হাট-বাজারে আনা-নেয়া করতে পারছে সহজেই। একযুগ আগেও এগুলো ছিল এই জনপদের মানুষের কাছে স্বপ্ন। বর্তমান সরকার আমলে এ উপজেলার প্রতিটি এলাকাতেই এমন পরিকল্পিত রাস্তাঁঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের উন্নয়নে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। গ্রামে বসেই মানুষ পাচ্ছে শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা।
আড়াইহাজার উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিবার্চনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুর দিকনির্দেশনায় এ উপজেলায় পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। আমি এখানে যোগদান করে অনেক উন্নয়ন দেখেছি। আধুনিক মানের পাকা সাবমার্সিবল সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক বিভাগের মাধ্যমেও একাধিক বড় বড় সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও মানুষে যে কোন সময় যানবাহনে চড়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ দেশের যে কোন প্রান্তে চলাচল ও নির্বিগ্নে মালামাল পরিবহন করতে পারছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের ছেলে-মেয়েরা শহরের স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করতে পারছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করে বাড়তি আয় করতে পারছে। গ্রামেই মিলছে শহরের সুবিধা। যোগযোগ খাতে উন্নয়নের কারণে এ উপজেলার মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। বাকি রাস্তাঘাটগুলোর নির্মাণ শেষ হলে এ উপজেলা হবে দেশের যোগাযোগ সমৃদ্ধ মডেল উপজেলা। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।
জানা গেছে, আরিফুর রহমান ২০২১ সালের ১২ আগস্ট আড়াইহাজার উপজেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। অল্প সময়ে তিনি অনেক কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণিত করতে পেরেছেন। তিনি ৫০০ কোটি টাকার টেন্ডার করেছেন এলজিইডির মাধ্যমে। কাজের মাধ্যমে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।
কাজগুলো হলো: ডেঙ্গুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, চনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদমীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সংস্কার। এছাড়া ইউআরসি ভবন মেরামত, সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামত, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামত, ইউএনওর বাসভবন, ডরমেটরি ভবন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন মেরামত ও উপজেলা পরিষদের মুজিব কর্ণার নির্মাণ করেছেন।
