নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ মহিদুল ইসলামের ২০তম প্রয়াণ দিবস ও ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর ৪৬ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপি সৈয়দ মহিদুল ইসলাম স্মরণ উৎসব ২০২২। এবারের আয়োজনে থাকছে নাটক, সৈয়দ মহিদুল ইসলাম পদক, মঞ্চবন্ধু সম্মাননা এবং যুগল সম্মাননা।
এ বছরের সৈয়দ মহিদুল ইসলাম সম্মাননা পদক পেয়েছেন নাট্যশিল্পে নিবেদিত প্রাণ দেশের খ্যাতিমান নাট্যনির্দেশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন। উৎসব উদ্বোধনী-সন্ধ্যায় ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর ৪৬ বছরের পদার্পণের আনন্দ মূহুর্তে ইসরাফিল শাহীনের হাতে পদক তুলে দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, এমপি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন ম. হামিদ, অনন্ত হীরাসহ অনেকেই।
থিয়েটারে অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাট্য নির্দেশক, নাট্য গবেষক ইসরাফিল শাহীন এ সম্মাননা পদক পেয়েছেন। পদক পাওয়া পর তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ইসরাফিল শাহীন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারে নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক সৈয়দ মহিদুল ইসলাম মানু ভাইয়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা, পরিবেশনা শিল্পের সুফল শুধুমাত্র নাগরিক আয়তনে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। কারাবন্দী, কিশোর সংশোধনাগার, মানসিক হাসপাতাল, অনাথ আশ্রমের মতো প্রতিষ্ঠানে পরিবশেনা শিল্পকলার প্রয়োগ ঘটিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কালচারাল থেরাপিস্ট নিয়োগের আহবান জানান। এ লক্ষ্যে ইসরাফিল শাহীনের নিবার্হী পরিচালনায় বাংলাদেশ সেন্টার ফর পারফরম্যান্স অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া নাগরিক থিয়েটারকে তৃণমূল পর্যন্ত অর্থাৎ উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতেও তিনি কিছু পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
সম্মাননা পদক প্রদানে আগে স্মরণ আলোচনা ও সৈয়দ মহিদুল ইসলামের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘অভিনয় গুরু’র প্রদর্শনী হয়। আর উৎসবের প্রথম রজনীতে মঞ্চস্থ হয় লোক নাট্যদলের নাটক ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’।
