ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের লাহিড়ী বাজার থেকে পাড়িয়া ইউনিয়নের বাজার পর্যন্ত ৫.১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা সংস্কার কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে নিম্নমানের কাজ করতে বাধা প্রদান করতে গিয়ে ঠিকাদারের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের ডালু, প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যসহকারী আবু সুফিয়ান ও ঠিকাদারের সহকারী জাহাঙ্গীর আলম আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন জাহাঙ্গীর আলম ও সুফিয়ান।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, পুরো রাস্তার সংস্কার করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে। ঠিকমত রাস্তার দু’পারে মাটি না ফেলে দায়সারা কাজ করছেন তারা। যা তিন মাসের মধ্যেই উঠে যাবে। এসব কাজে বাধা প্রদান করতে গিয়ে ঠিকাদারের লোকজন আমাদের উপর চড়াও হয়েছে।
অন্যদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহমান এন্টার প্রাইজের সহকারী আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তা সংস্কার কাজে বাধা সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করতে আসার কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনি বালিয়াডাঙ্গী থানায় ওই গ্রামের ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নিম্নমানের কাজের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর প্রচুর দাম বেড়েছে। ইট পাওয়া যাচ্ছে না। পাবনা থেকে ইট এনে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। দু’একটা ইটে সমস্যা রয়েছে।
লাহিড়ী এলাকার বাসিন্দা নয়ন বলেন, নিম্নমানের কার্পেটিং, ইটের টুকরো ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তার সংস্কার কাজে। এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে মারধর করেছে ঠিকাদারের লোকজন। ডালু নামে একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন তাকে হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে আমরা চাঁদাবাজি করতে গিয়েছিলাম। ঠিকাদার আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রাস্তাটির সংস্কার কাজ পরিদর্শনের অনুরোধ করেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে রাস্তা নিম্নমানের কার্পেটিং ও ইটের টুকরো খোয়া বিছানোর দৃশ্য নজরে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পজিরুল ইসলাম বলেন, তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদার। এসব দেখার যেন কেউ নাই।
রাস্তার পাশের বাসিন্দা আলিম উদ্দিন নামে ৭০ বয়সী এক বৃদ্ধ বলেন, এক ঠিকাদার রাস্তা সংস্কার করবে। ছয় মাস পর আরেক ঠিকাদার সেই রাস্তা পুনরায় সংস্কার করবে। একবারে ভালো কাজ করলে তো রাস্তার কার্পেটিং উঠবে না। তাই রাস্তার নির্মাণ আর সংস্কারের নামে সরকারি টাকা লুটপাট করছে সবাই।
প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে, ইমরান হোসেন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও, মেসার্স রহমান এন্টার প্রাইজের হয়ে সহকারী ঠিকাদার আসাদুজ্জামান লাভলু এ কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।
প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের কাজ ও রাস্তা সংস্কারে বাধা দুটো অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। রাস্তার কাজে অনিয়ম হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল পাবে না। অন্যদিকে সরকারি বাধা দিলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মামুন জানান, রাস্তায় হাতাহাতির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

