নেত্রকোনায় জেলা শহরের আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ২৮৭ চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৫৬ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। শুধুমাত্র নেত্রকোনা আর কেন্দুয়া হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্যা ৫০ জন। এর মধ্যে রয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ শল্য চিকিৎসক এবং এনেসথেসিস্ট। ফলে জেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসকরা। এদিকে রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জেলা শহরের চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু সেখানেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তাদের ময়মনসিংহ অথবা ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে। অথবা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে আস্থা হারাচ্ছেন জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থায়।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে যোগদানের কিছু দিন পর প্রেষণে অন্যত্র চলে যান বা উচ্চতর প্রশিক্ষণের নামে রাজধানী ঢাকায় পোস্ট নিয়ে চলে যান। ফলে এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট সবসময় বিরাজমান। এটা কখনো পূরণ হয় না। নেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৮৭টি। আর বর্তমানে চিকিৎসক আছেন ১৩১ জন। ১৫৬ জন চিকিৎসক নেই বছরের পর বছর ধরে। এই শূন্য পদের মধ্যে রয়েছেন ৭৭ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, পূর্বধলায় ১৬ পদ শূন্য। দুর্গাপুরে ৭, বারহাট্টায় ৭, কলমাকান্দায় ১৬, মোহনগঞ্জে ১৩, খালিয়াজুরীতে ৬, মদনে ১৬, আটপাড়ায় ১৭, কেন্দুয়ায় ২২ এবং নেত্রকোনা সদরে ২৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাদের ময়মনসিংহে অথবা ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, নেত্রকোনায় হাসপাতাল আছে, কিন্তু ডাক্তারের অভাবে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। জরুরি বা গুরুতর রোগীদের ময়মনসিংহ অথবা ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে। তিনি সারা জেলায় চিকিৎসকের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নেত্রকোনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহসান কবির বলেন, নেত্রকোনা জেলা শহর হওয়াতে এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক থাকায় এখানে রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. একরামুল হাসান বলেন, এই হাসপাতালে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। চিকিৎসকের পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু সেসব পদ পূরণ হচ্ছে না। ফলে কম চিকিৎসক দিয়ে বেশি সেবা দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে এই হাসপাতালে সিনিয়র এবং জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও মেডিক্যাল অফিসার, এনেসথেসিস্টসহ বিভিন্ন চিকিৎসকের ২৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া বলেন, সকল হাসপাতালের শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় চিকিৎসক পোস্টিং দেওয়া হলেও সকল শূন্য পদে চিকিৎসক দেওয়া হয় না। ফলে উপজেলাগুলোতে কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। অনেক চিকিৎসক এখানে পোস্টিং পেলেও কোর্সের নাম করে কিছু দিন থেকে চলে যান। সেই পদ আর দ্রুত পূরণ হচ্ছে না। তবে চিকিৎসকসংকট অচিরেই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
