শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

স্কুল মাঠে হাঁটুপানি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ১৮:০৪

মাদারীপুর সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল জাবির হাই স্কুলের মাঠে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মাঠে পানি বেড়ে এক পর্যায়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। চারপাশে উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠেছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বছরের ৬/৭ মাস এমন জলাবদ্ধতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

সোমবার (৭ নভেম্ববর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠেই হাঁটুপানি বিরাজ করছে। এতে শিক্ষার্থীরা স্কুলের কক্ষে যেতে পোহাতে হচ্ছে হাটু পানি। কেউ আবার পিছলে পড়ে যায় কাদা-পানিতে। কাদা-পানি পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয় যাতায়াত করতে হয় তাদের। জলাবদ্ধ মাঠের ঘাস ও আগাছার পঁচা দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিদ্যালয় মাঠে খেলতে না পারায় শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। এমন জলাবদ্ধতায় মাদারীপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পানিছত্র এলাকার আল-জাবির হাইস্কুল। স্কুলের নেই পর্যাপ্ত ভবন। টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে পাঠদান। একটু বৃষ্টি হলেই কিংবা আকাশে মেঘ দেখলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা শঙ্কা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দুইটি টিনসেট ঘর ও ছোট দুইটি ভবন রয়েছে আল-জাবির হাইস্কুলে। যা ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে হাই স্কুলটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচশত। শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকেন। পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়ও।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত খেলাধুলা ও প্রাত্যহিক সমাবেশ করা যায় না। একটু বৃষ্টি হলেই শ্রেণি কক্ষে আসা-যাওয়া সমস্যা হয়। অনেক সময় যেতে-আসতে শরীরে কাদা লেগে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহাবউদ্দীন জানান, পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিপাতেই মাঠটি জলাবদ্ধতার শিকার হয়। বেশি বৃষ্টি হলে মাঠের পানি বেড়ে শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দেখা দেয়। মাঠের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে মাটি ভরাটের কোনো বিকল্প নেই। জলাবদ্ধতার কারণে একদিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও  হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

মাদারীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. হাবিব উল্লাহ খান বলেন, আল-জাবির হাইস্কুলের বিষয়ে এখনো কোনো আবেদন হাতে পাইনি। তবে আবেদন হাতে পেলে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করবো।

ইত্তেফাক/পিও