যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া বাজার নামক সড়কে যানবাহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদা না দিলে পরিবহন শ্রমিকদের করা হচ্ছে মারধর। অভিযোগ আছে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করেই চলছে এ চাঁদাবাজি, নেওয়া হচ্ছে না বন্ধে কোনো উদ্যোগ।
ওই সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে পরিচিত বাঁকড়া বাজার। বাজারের কওমি মাদরাসার সামনে লাঠি হাতে কিছু যুবক প্রতিদিন চাঁদা তোলেন।
সরেজমিনে, এর সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিটি ট্রাক, পিকআপ ও ট্রাক্টর থেকে একশ টাকা, নছিমন ৩০-৫০ টাকা, ভ্যান থেকে ২০ টাকা, থ্রি হুইলার ও ইজিবাইক থেকে ৩০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
বাজারে আসা ফার্মা, কনজিউমার প্রোডাক্ট, টোব্যাকো প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালকরা জানান, টাকা না দিলে দোকানে মালামাল নামাতে বাধা দেওয়া হয়। গাড়ি আটকে রেখে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। একই অভিযোগ স্থানীয় এক ইজিবাইক চালকের।
বাঁকড়া বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামাদ খা বলেন, ‘যানবাহন থেকে টাকা তোলা হচ্ছে সত্যি। শুনেছি ইজারাদার তাদের কাছে ওই সেক্টরটা নাকি বিক্রি করেছেন। তারা নাকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানিয়ে টাকা তুলছেন।’
এ বিষয়ে বাজার ইজারাদার পলাশ খান বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান নিছার আলী আমার নামে বাজার ইজারা নিয়েছিলেন। ব্যস্ততার কারণে ওটা আমি দেখভাল করি না। আমার জানা মতে, সরকারি নির্দেশনায় ইজারার ভিতর যানবাহনে টাকা তোলার কোনো বৈধতা নেই।’
আরও পড়ুন: শীর্ষে অ্যামাজন, পেছনে অ্যাপল গুগল
বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছার আলী বলেন, ‘চাঁদা তোলার বিষয়টি আমার নলেজে নেই। গাড়ি থেকে টাকা নেওয়া টোটালি অবৈধ।’
বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/অনি
