শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন

৫০ লাখের বেশি টাকা রাখতে পারবে না মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২, ০৫:০৬

দিনের বেচাকেনা শেষে একটি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ নগদ টাকা রাখতে পারবে, তার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খোলা বাজারে বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি ও দর নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এখন থেকে বিদেশি মুদ্রা বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত কোনো মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান দিন শেষে নিজেদের কাছে নগদ ২৫ হাজার ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রাখতে পারবেন। এর বেশি কোনোভাবেই রাখা যাবে না। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনায় স্থানীয় মুদ্রা টাকার অঙ্কে কোনোভাবেই নগদ ৫০ লাখ টাকার বেশি রাখতে পারবে না তারা।

ছবি- সংগৃহীত

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদনপ্রাপ্ত অথরাইজড ডিলার (এডি) শাখায় পাঠিয়েছে।

মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগদ টাকা রাখার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া একটি নতুন সিদ্ধান্ত। তবে ২৫ হাজার ডলারের বিষয়টি আগে থেকেই আছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১ লাখ ডলার রাখতে পারার অনুমোদন য়েছিলেন। অন্তত ৫০ হাজার ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রাখার অনুমোদন দিলেও ব্যবসা পরিচালনায় উপকার হতো বলে জানান তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে আরও বলা হয়, ২৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকে থাকা তার বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে (এফসি হিসাব) জমা রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে তা প্রয়োজন আকারে তুলতে পারবে তারা। সেক্ষেত্রেও একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ছবি- সংগৃহীত

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাবে কোনোভাবে ৫০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার চেয়ে বেশি জমা রাখতে পারবে না কোনো মানি চেঞ্জার। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান চাইলে তা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে।

ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ কমতে থাকায় ব্যাংকগুলোতে তরল ডলার সংকট তৈরি হয়েছে। প্রবাসী আয় আসা কমতে থাকায় দেশে নগদ ডলারের সরবরাহও কমে যায়। এতে গত ১২ জুলাই প্রথম বারের মতো খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হয় ১০০ টাকায়।

ছবি- সংগৃহীত

এরপর থেকেই ডলারের দাম অস্থিতিশীল হয়। খোলা বাজারে ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১২১ টাকায়। এক বছর আগেও যা ছিল ৯০ টাকা। এরপর ডলারের কারসাজি রোধে খোলা বাজার ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোতে অভিযান চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১১৩ থেকে ১১৪ টাকায়। এছাড়া আন্তঃব্যাংকে এদিন ডলার বিক্রি হয়েছে ১০৫ দশমিক ২৮ টাকায়। মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ডলার সংগ্রহের মূল উৎস বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা। তারা কাগুজে মুদ্রা বেচাকেনা করে থাকে। তারা একটি হিসাব সংরক্ষণ করে থাকে মাত্র।

ইত্তেফাক/এমএএম