রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকীতে দুই দিনব্যাপী আয়োজন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২, ১৭:৩০

'বিষাদ সিন্ধু'র রচিয়তা ও কালজয়ী ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৫তম জন্মবার্ষিকী ১৩ নভেম্বর। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়াস্থ মীরের বাস্তুভিটায় ১৩ ও ১৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মীরের বাস্তুভিটায় এবারও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাদামাটা অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান জাতীয় পর্যায়ে জাঁকজমকভাবে পালনে স্থানীয়দের দীর্ঘকালের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে বার বার।

আয়োজনে থাকছে আলোচনা সভা, সাহিত্যিক মীরের স্মৃতিচারণ, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ গ্রামীণ মেলা।

মীর মশাররফ হোসেন একাধারে ছিলেন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। কালজয়ী বিষাদ সিন্ধুসহ বহু উপন্যাস ও পুস্তকের রচিয়তা তিনি। কারবালার যুদ্ধের ঘটনাবলী সম্বলিত বিষাদ সিন্ধুই মীরের রচিত সাহিত্যকর্মের শ্রেষ্ঠাংশ।

তিনি ১৮৯০ সালে তৎকালীন মুসলিম সমাজে বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি ‘আজিজন নেহার’ ও ‘হিতকরী’ নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পদনা করে গেছেন।

কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় এখন নেই তার ঘর-বাড়ির কোনো অস্তিত্ব। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মীর মশাররফ হোসেনের জন্মের পর তার ছেলেবেলা কেটেছে এই লাহিনীপাড়া গ্রামেই। তার পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন এলাকার জমিদার ছিলেন। ১৯১১ সালের সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি রাজবাড়ি জেলার কালিয়াকান্দী উপজেলার পদমদী গ্রামে ৬৪ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পর স্ত্রী কুলসুম বিবির কবরের পাশে সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়।

গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্ম বিষয়কসহ অসংখ্য গ্রন্থ তিনি রচনা করে গেছেন। এছাড়া জমিদার দর্পন, গাজী মিয়ার বস্তানী, বিবি কুলসুম, রত্নাবতী ও বসন্তকুমারী নাটক তার অনন্য সৃষ্টি। তার সাহিত্যকর্ম আপামর বাঙালি মুসলমান পাঠকদের করেছে দারুণ মুগ্ধকর। এছাড়া মীরের রচিত জমিদার দর্পন নাটক তৎকালে প্রজা নিপিড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে কৃষক-প্রজাদের মনে যুগিয়েছিল অনুপ্রেরণা।

লাহিনীপাড়ায় তার নামকরণে মীর মশাররফ হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও যাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। বই-পুস্তুকসহ মীরের ব্যবহৃত সবকিছু এই যাদুঘরে রয়েছে সংরক্ষিত।

উল্লেখ্য, ১৩ নভেম্বর বিকাল ৪টায় মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী মনজুর কাদির, পুলিশ সুপার খাইরুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রফিকুল আলম টুকু, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব ও কবি আলম আরা জুঁই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল।

ইত্তেফাক/এসকে