সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মাত্র ১৯ নম্বর পেয়েও রাবিতে ভর্তির সুযোগ! 

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২, ০১:০২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র ১৯ নম্বর পেয়েও ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন এক শিক্ষার্থী। এছাড়া খেলোয়াড় কোটায় আরো তিন জনকে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু তাদের কেউই ন্যূনতম পাশ নম্বর ৪০ পাননি। সম্প্রতি ভর্তি উপ-কমিটির সভায় পাশ নম্বর ১০ কমিয়ে ৩০ নির্ধারণ করে পোষ্য কোটায় ৬০ জনকে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাবির শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চার জন খেলোয়াড়কে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনো ভর্তি করা হয়নি। ভাইস চ্যান্সলরের ক্ষমতাবলে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হলে তিনি সেটা বিবেচনা করে ভর্তি করাতে পারেন। খেলোয়াড় কোটায় কোন নম্বর থাকে না। ভর্তি উপকমিটির প্রধান ও উপ-উপাচার্য গুরুত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এর আগেও, ১৮ পাওয়া এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন জাতীয় খেলোয়াড়। আগের বার দুই জনকে বিবেচনা করা হয়েছিল। পরে এক জনকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’ 


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘ফেল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যারা এমনটি করছেন তাদের অধিকার নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার।’ এ বিষয়ে ভর্তি উপকমিটির প্রধান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘ভর্তি কমিটির সকলের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেহেতু ভর্তি উপকমিটির সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তাই তারা ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

নতুন করে ভর্তির সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন—নৌখা নায়েল ত্রিপুরা, মো. আশরাফুল হক, অনিক দাস ও মো. রিফাত হোসাইন আশিক। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগ রাবির বিজ্ঞান অনুষদের অধিভুক্ত। এই বিভাগে বিকেএসপি কোটায় ভর্তি হতে ন্যূনতম পাশ নম্বর ৪০। বিশেষ বিবেচনায় গত ৬ নভেম্বর রাতে ভর্তি উপকমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু পোষ্য কোটার ক্ষেত্রে পাস নম্বর ৪০ থেকে ৩০ নম্বর করা হয়। এছাড়া ভর্তির শেষ সময় আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে খেলোয়াড় কোটায় পাশ নম্বর কমানো হয়নি। কিন্তু ওই বিভাগে ন্যূনতম পাশ নম্বর ৪০ না পেয়েও চার জনকে ভর্তি করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খেলোয়াড় কোটায় চার জনকে ভর্তির জন্য সুপারিশ করেছেন শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এম আসাদুজ্জামান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ বিবেচনায় তাদের ভর্তির সুযোগ দেয়। এদের মধ্যে ‘বি’ ইউনিটের রিফাত হোসাইন আশিকের প্রাপ্ত নম্বর মাত্র ১৯.৩৫ এবং একই বিভাগের অনিক দাস পেয়েছেন ২৬.২৫। তাদের দুজনের বিকেএসপি কোটা রয়েছে।

এছাড়াও ‘এ’ ইউনিটের নৌখা নায়েল ত্রিপুরা ভর্তি পরীক্ষায় পেয়েছেন ৩৭.৬৫ নম্বর এবং একই ইউনিটের আশরাফুল হক পেয়েছেন ৩৪.২৫ নম্বর। তাদের জন্য কোনো ধরনের কোটা না থাকলেও তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় বিবেচনায় ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইআ