উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বনাম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিরোধের জেরে উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। দেশের অনেক উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য উপজেলা পরিষদ এবং স্থানীয় এমপির অনুকূলে সাধারণভাবে বছরে দুই দফা চাল-গম বা সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। পৌর এলাকার জন্যও বরাদ্দ থাকে। এছাড়া এমপিদের অনুকূলে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এই বরাদ্দ টিআর, কাবিখা বা কাবিটা নামে পরিচিত। এই বরাদ্দ দিয়ে রাস্তাঘাট-কালভার্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়ে থাকে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্য, পৌর কাউন্সিলারদের নেতৃত্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
মাঠ প্রশাসনের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, পিআইওগণ যেসব প্রকল্প প্রণয়ন করছেন ক্ষেত্রবিশেষ ইউএনওরা তাতে অনুমোদন দিচ্ছেন না। আবার ইউএনওরা যেভাবে যেসব প্রকল্প দিতে বলছেন, সেগুলোকে উপেক্ষা করছেন পিআইওরা। অনেক ক্ষেত্রে পিআইও বা ইউএনও এমপির কথা মতো প্রকল্প দিতে অনিহা প্রকাশ করছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমপি প্রকল্প কমিটি করে যাকে খুশি তাকে দিয়ে প্রকল্প করিয়ে সমুদয় বা আংশিক অর্থ পকেটস্থ করছেন, যাতে পিআইও অনুমোদন দিলেও ইউএনও অস্বীকার করছেন। আবার কোনোটিতে ইউএনও সম্মত হলেও পিআইও সম্মতি দিচ্ছেন না। এমন বাস্তবতায় যথাসময়ে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নিয়মবহির্ভূত লেনদেনে সমঝোতার অভাবেও বিলম্বিত হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন।
সূত্র জানায়, এ বিষয়ে বছর বছর অডিট হয় কিন্তু তাদের ম্যানেজ করে সাদা করা হচ্ছে টিআর—কাবিখার যত অনিয়ম-দুর্নীতি। যথাযথ তদারকি নেই। আবার এমপি-ইউএনও-পিআইও সিন্ডিকেট করে এসব অনিয়ম দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কিছু উপজেলায় ইউএনও এবং পিআইওদের বিরোধ এখন চোখে পড়ার মতো। বিষয়টি ক্রমেই দৃশ্যমান হওয়ায় জনমনেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। কিছু উপজেলায় বরাদ্দ ব্যবহার করার শেষ দিবসে ছাড় হচ্ছে টিআর-কাবিখার টাকা। মূলত এ দিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। পুরোটাই চলে যাচ্ছে ঐ সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এসব নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
