সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অধস্তন আদালতে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে মামলা নিষ্পত্তির হার: প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২, ২১:৫৪

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, ক্রমান্বয়ে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, পরিসংখ্যান হতে দেখা যায়, অধস্তন আদালতে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তির হার ছিল শতকরা ৮৫ ভাগ। পরের তিন মাস এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১০১ ভাগ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১০৫ ভাগ। অর্থাৎ এই মুহূর্তে মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক উদ্ভাবিত ছয়টি কোর্ট প্রযুক্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ছাড়াও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬৪১ টি মামলা দায়ের এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৫০ হাজার ৯১০ টি। এই বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির হার শতকরা ৭৯ ভাগ। এছাড়া ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি করেছে ১৩৮টি। 

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নানা উদ্ভাবনী পদক্ষেপ ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে জনগণের অধিকার ঈর্ষনীয়ভাবে অক্ষুণ্ণ রেখেছে। জাতির দুঃসহ ক্রান্তিলগ্নে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে বিচারক, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে পেশাগত দক্ষতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিচার বিভাগ তো বটেই দেশের ইতিহাসে তা আগামী প্রজন্মের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের টেকনোলজি টিমের মেন্টরের দায়িত্বে ছিলেন আপিল বিভাগের রেজিস্টার মো. সাইফুর রহমান। টিম লিডার ছিলেন হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জাম হোসেন। আর সদস্য হিসাবে ছিলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার এম.এম মোর্শেদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদুর রহমান, মো. আব্দুল মালেক ও মো. মাইনুদ্দিন কাদির। এই টেকনোলজি টিম ৬টি কোর্ট প্রযুক্তি নির্মাণ করেছেন। 

এগুলো হচ্ছে-সুপ্রিম কোর্ট মোবাইল অ্যাপ, আপিল বিভাগের ডিজিটাল অনুলিপি শাখা, অনলাইনে অধস্তন আদালতের রায় ও আদেশ প্রকাশ, মনিটরিং কমিটির অনলাইন রিপোর্টিং টুলস, আপিল বিভাগে প্রবেশ পাশ ও শিশু আদালতের রিপোর্ট এন্ট্রি প্লাটফর্ম। এসব কোর্ট প্রযুক্তি নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের কোন অর্থ ব্যয় হয়নি। এসব প্রযুক্তির সহায়তায় বিচারপ্রার্থী জনগণের সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন বলে জানান টিমের সদস্যরা। 

ইত্তেফাক/এএএম