শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঈশ্বরদীতে আবারও কমেছে ডিমের দাম

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২২, ০৩:০৪

তিনদিনের ব্যবধানে ঈশ্বরদীতে আবারও কমে গেছে ডিমের দাম। ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের ডিম বিক্রির টাকায় মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম উঠছে না। ক্রমাগত লোকসানের কারণে এনজিও এর ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। মুরগির খাবার, বাচ্চা, ওষুধ, শ্রমিকের মজুরিসহ নানা উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে খামার টিকিয়ে রাখা এখন কষ্টকর। গত ৭-৮ দিন ধরে ক্রমাগত নেমে যাচ্ছে ডিমের দাম। সোমবার বিকেলে এবং মঙ্গলবার সকালে খামারিরা প্রতিটি ডিম ৮.৬০ টাকা অর্থাৎ একশত ডিম ৮৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন। গত ১২ ডিসেম্বরও বিক্রি হয়েছে ৯.১০ টাকা। এতে খামারিরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। 

খামারিরা বলছেন, প্রতিটি ডিমের উৎপাদন ব্যয় ১০.৫০ টাকা। পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮.৬০ টাকা। ডিম প্রতি লোকসান হচ্ছে ১.৯০ টাকা। অথচ নভেম্বরের শুরুর দিকে প্রতিটি ডিম খামারিরা বিক্রি করেছেন ১০.৫০-১১ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মাছের আমদানি বৃদ্ধি, সবজির দাম হ্রাস এবং বড় বড় খামারিদের সিন্ডিকেটের কারণে ডিমের দাম কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

ঈশ্বরদীর ডিমের আড়ত ঘুরে জানা যায়, নভেম্বরের শুরুতে খামারিরা এক হালি ডিম ৪২-৪৪ টাকায় বিক্রি করেছেন। বাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এখন আড়তে প্রতি হালি ৩৪.৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৬ -৩৮ টাকা।

কলেজ রোডের ডিম আড়তের খায়রুল ইসলাম জানান, খামারিদের কাছ থেকে ৩৪.৪০ পয়সা হালি দরে ডিম কিনে ৩৫ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীতে ডিমের দাম নির্ধারণ হয়। খুচরা বা পাইকারি ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডিমের বাজার দর জেনে ডিমে কিনতে আসে। আমদানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে মাছের আমদানি ও সবজির দাম কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

শহরের পোস্টঅফিস মোড়ের গোলাম রসুল বলেন, তিন দিন আগে ডিম প্রতি হালি ৪০-৪২ টাকা হালিতে খুচরা বিক্রি করেছি। পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় এখন দাম ৩৬-৩৮ টাকা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত খামারি ও পাবনা জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন জানান, বাজারদর অনুযায়ী প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮.৬০ টাকা। তিনদিনের ব্যবধানে দাম কমেছে ১.৯০-২ টাকা। মুরগির খাদ্যের দাম বাড়ছে আর ডিমের দাম কমছে। ডিমের দাম  এভাবে কমতে থাকলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। তখন ডিম উৎপাদনকারী বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট করে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম বাড়িয়ে দেবে। ডিমের বাজারদর ওঠানামা করার পেছনে যে সিন্ডিকেট আছে তার লাগাম এখনই টেনে ধরার জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন ।

দাশুড়িয়ার খামারি নজরুল ইসলাম জানান, আবারও তিনদিনের ব্যবধানে খামারে ডিমের দাম কমেছে শতকরা ৫০ টাকা। ৪২ টাকা হালির ডিম এখন ৩৪.৪০ টাকা। অথচ প্রতিটির উৎপাদন খরচ প্রায় ১০.৫০ টাকা। প্রতি ডিমে লোকসান ১.৯০ টাকা। এনজিও এর ঋণের বোঝা সুদসহ বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে খামার বন্ধ হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/ইআ