দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যা সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় আটক যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম।
তিনি বলেন, গত ১৩ জুন বীরগঞ্জ উপজেলার শালবন থেকে নিহত দুই যুবকের বন্ধু বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রামের মো. তরিকুল ইসলামকে (২৭) আটক করা হয়। আটকের পর তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করেন। গত ১৪ জুন আদালতের বিচারকের নিকট দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন।
নিহত দুই যুবক হলেন অনির্বাণ ওষুধ কোম্পানির সাবেক প্রতিনিধি হানিফুর রহমান (২৪) ও দেবীপুর খোলাকুটি বাজারের কম্পিউটারের দোকানদার বিপ্লব চন্দ্র রায় (২৩)।
আরো পড়ুন: এবার ইনজুরিতে মুশফিক!
পুলিশ সুপার আরও জানান, টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তরিকুল ইসলাম জানায়, ঘটনার আগের দিন ২৯ মে দুপুর ২টায় বীরগঞ্জ বাজারে ঝারবাড়ি থেকে ওই দুই যুবকের সঙ্গে নীলফামারী জেলার দেবীগঞ্জ বাজারে যান তিনি। সেখানে আসামি তরিকুল বাজার থেক ১টি ধারালো অস্ত্র ক্রয় করে কোমরে লুকিয়ে রাখে। এরপর রাত সোয়া ৯টায় দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেন্সিডিল সেবন করে। রাত ২টার দিকে তিনজন মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল দেবফুর গ্রামের বালাপাড়ার যদুর মোড়ে যাওয়ার জন্য রওনা হয়।
এসময় তরিকুল মোটরসাইকেলে এক আরোহী বিপ্লবের গলায় চাকু দিয়ে কয়েকটা টান দেন। এরপর মোটরসাইকেলের চালক হানিফের গলায়ও চাকু দিয়ে টান দেন। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল থেকে তিনজনই পরে যান। পরে তরিকুল মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুলিশ ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।
পরের দিন সকালে স্থানীয় জনতার তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে নিহত হানিফুর রহমান ও বিপ্লব চন্দ্র রায়ের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

