অব্যবহৃত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু আর্নার্স সেন্টার

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫৫

নিরিবিলি পরিবেশ। ভেতরে সুনসান নীরবতা। চারদিকে সবুজের সমারোহ। প্রায় ১৪০ কাঠা জমির ওপর গড়ে উঠেছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ডরমেটরি। যা তৈরি করা হয়েছে বিদেশগামী এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সাময়িক আবাসস্থল হিসেবে। মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে যে কোনো প্রবাসী দুই দিন কাগজপত্র দেখানোর মাধ্যমে রাত্রিযাপন করতে পারবেন এখানে। কিন্তু সরকারের এমন চমৎকার আয়োজনেও নেই সাড়া। খিলক্ষেতের লঞ্জনীপাড়া বরুয়াতে স্থাপিত এই বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার এখন বেকার পড়ে আছে। উদ্বোধনের আট মাসেও দর্শনার্থী না আসায় চালু হয়নি খাবারের ক্যান্টিনও।

জানা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এটি তৈরি করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের সাময়িক আবাসন সুবিধাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য গত ১৭ মার্চ এটি উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ। ১৭ মার্চ চালু হলেও মে মাস থেকে প্রবাসীরা এখানে রাত্রিযাপন করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, উদ্বোধনের আট মাসে মাত্র ২০০ জন প্রবাসী এখানে এসেছেন। এর মধ্যে কোনো দিন এক জন, আবার খালিও ছিল। ডরমেটরিতে ৫০ জন যাত্রী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী।

সেন্টারের আওতায় সুযোগসুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিদেশগামী বা ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীরা নামমাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে সরাসরি বা অনলাইনে সিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেন্টারে প্রতি রাতে অবস্থানের জন্য একজন যাত্রীর খরচ মাত্র ২০০ টাকা। প্রতিবার সর্বোচ্চ দুই রাত অবস্থান করা যাবে। বিমানবন্দর যাতায়াতে বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীর জন্য রয়েছে সেন্টারের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা। সেফ লকারে লাগেজসহ মূল্যবান মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা, টেলিফোন সুবিধা, ইন্টারনেট ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেন্টারটিতে। এছাড়া নিজস্ব ক্যান্টিনের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, একেবারে গ্রামীণ পরিবেশে সড়কের পাশে সেন্টারটির অবস্থান। বিমানবন্দর থেকে একটু ভেতরে হওয়ায় সাধারণ মানুষও এই সেন্টার সম্পর্কে জানে না। সেন্টারটিতে মাত্র এক জন বিদেশগামী যাত্রী রয়েছেন। দ্বিতল ভবনের সব কক্ষই খালি। একেকটি রুমে আলাদা বেডে চার জন করে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। একটি রুমে অবস্থান করা স্বনাতন নামে এক বিদেশগামী যাত্রী জানান, তিনি কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন। তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি এ সেন্টারের কথা জেনেছেন। তিনি এখানে কম খরচে আসতে পেরে সন্তুষ্ট। তবে ক্যান্টিন চালু না হওয়ায় সামনের একটি হোটেল থেকে খাবার আনা হচ্ছে তার জন্য।  তিনি আরো জানান, এত আয়োজন তবুও সঠিক প্রচার ও না জানার কারণে মানুষ আসছে না। কিন্তু বাইরে অনেক টাকার বিনিময়ে হোটেলে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রবাসী কর্মী না আসায় এখনো ক্যান্টিন চালু করা যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, সেন্টারটিতে মোট সাত জন স্টাফ রয়েছেন। এর মধ্যে একটি গাড়ি আনা নেওয়ার জন্য সারাক্ষণ অবস্থান করে। একজন ড্রাইভারও রয়েছে। পর্যাপ্ত প্রবাসী কর্মী না আসার বিষয়ে সেন্টারটির উপসহকারী পরিচালক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। ধীরে ধীরে আরো মানুষ আসবে বলে আশা করছি।’ অন্যদিকে কেন লোক আসছে না এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু আর্নার্স সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুল্লাহ বাহার প্রচারণার বিষয়ে গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন। তাছাড়া লোকজন না আসায় ক্যান্টিন চালু করতে পারেন নি বলে তিনি জানান। 

ইত্তেফাক/ইআ