রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার ছাত্রলীগের কমিটি

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২, ১৮:৩২

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হওয়ায় ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে থাকবে ছাত্র রাজনীতির পতাকা।

এছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সমূহ সম্ভাবনা, বিএনপির মাঠ দখলের চেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক ছাত্র-রাজনীতি সক্রিয়সহ নানা কারণে হিসাব কষছে ছাত্রলীগের এ কমিটির জন্য।

আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড বলছে, এবারের নির্বাচন বিগত দুই নির্বাচনের তুলনায় সহজ হবে না। তাই এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে ছাত্রলীগের। এছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ডাকসু নির্বাচন দেওয়া এবং আগামী প্রজন্মের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ছাত্রলীগকে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হবে। যার কারণে এবারের ছাত্রলীগে জনপ্রিয় ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নিজে যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে এবারের কমিটি দিবেন বলে জানায় দলীয় একটি সূত্র।

ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সারাদেশকে সাতটি অঞ্চল হিসাব করা হয়। অঞ্চলগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি এক সঙ্গে হওয়ায় অনেক সময় প্রার্থীদের তালিকা আলাদা করা হয় না। একই তালিকা থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম

গত তিন কমিটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব আসেনি। তবে নেতা-কর্মীদের এবারের প্রত্যাশা, আয়তন ও জনসংখ্যার দিকে থেকে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চল থেকে এবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নেতা হতে পারেন।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বলছে, করোনা মহামারিতে জনপরিসরে নানা কাজের মাধ্যমে যারা সুনাম কুড়িয়েছেন এবং ছাত্রলীগের তৃণমূল পর্যন্ত যারা পৌঁছাতে পেরেছেন তারা এবার চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছে। তাই এ অঞ্চল থেকে সবার প্রত্যাশা বেশি। এ অঞ্চলে এবার আলোচনায় আছেন করোনায় অক্সিজেন সরবরাহ করে আলোচনায় আসা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী। ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল। বিনামূল্য খাবার সরবরাহ করে আলোচনায় আসা ডাকসুর সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, নাট্য ও বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, মাজহারুল ইসলাম শামীম, শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, উপ গণয‌োগোযোগ ও প্রশ‌ক্ষিণ ব‌িষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ন‌োমান।

উত্তরবঙ্গ

এবার উত্তরবঙ্গ থেকে নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, উপ-পরিবেশ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সোহাগ, সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হাসনাত সরদার হিমেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক সজীব নাথ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেহেদি হাসান সানি, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আল আমিন সুজন, উপ-দপ্তর সম্পাদক খাঁন মোহাম্মদ শিমুল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম উপ-দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব আলোচনায় আছেন।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে এবার নেতৃত্বের দৌঁড়ে অন্তত ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন। শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডে খুব বেশি না থাকায় এ অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

তারপরও আলোচনায় আছেন মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মেহেদি হাসান তাপস, সহ-সভাপতি সোহান খান, উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক রাশিদ শাহরিয়ার উদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপ শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক নিয়ামত উল্লাহ তপন, সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম আকন্দ, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজিবুর রহমান সজীব, জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুরাপ মিয়া সোহাগ, উপ-স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাকের আহমেদ আল আমিন।

বরিশাল

অঞ্চল হিসেবে সবচেয়ে বেশি নেতৃত্ব আসে যে অঞ্চল থেকে বরিশাল তার মধ্যে অন্যতম। এ অঞ্চল থেকে এবার আলোচনায় আছে সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, উপ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়, সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন, ইয়াজ আল রিয়াদ, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহান।

ফরিদপুর

তুলনামূলক ছাত্রলীগের সবচেয়ে বেশি নেতৃত্ব আসে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে। অঞ্চল থেকে এবার আলোচনায় আছে আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক শরীফ বায়েজিদ ইবনে মোহাম্মদ কোতওয়াল, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক রনি মাহমুদ, উপ-আইন সম্পাদক শাহেদ খান, সহ-সভাপতি কামাল খান, রাকিব হোসেন, হাজী মহাম্মদ মহসীন হলের সভাপতি শহীদুল হক শিশির, জিয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হোসেন শান্ত, উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য।

খুলনা

বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহীন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তুহিন রেজা ও জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অতনু বর্মণ।

সিলেট

ছাত্রলীগে সবচেয়ে কম নেতৃত্ব আসে সিলেট অঞ্চল থেকে। তাই এ অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব আসার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। দীর্ঘ সময় পর কমিটি পেয়েছিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন। এবার এ অঞ্চল থেকে প্রার্থী হিসেবে আছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আল আমিন রহমান, জগন্নাথ হলের সভাপতি কাজল দাস।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদপ্রার্থী।

বিজ্ঞানে ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া নামে অঘোষিত দুটি অঞ্চল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে অঘোষিত উত্তরপাড়া। অন্যদিকে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত হলগুলো দক্ষিণপাড়া। গত দুই কমিটিতে নেতৃত্ব আসেনি বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত হলগুলো থেকে। তবে এবার সবার প্রত্যাশা বিজ্ঞান অনুষদের হলগুলো থেকে একটি নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে না আসলেও অন্ততপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটিতে বিজ্ঞান অনুষদ থেকে দায়িত্ব পাবেন বলে প্রত্যাশা দক্ষিণ পাড়ার। এ অংশে আলোচনায় আছেন ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, আহসান পিয়াল, খন্দকার আহসান হাবিব, উপ-পরিবেশ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সোহাগ

সম্মেলন ও ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ছাত্রলীগের লাখ লাখ কর্মী বাহিনী রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে যোগ্য, দক্ষ, সাংগঠনিক ও ছাত্রদের মধ্যে মধ্যে জনপ্রিয়তা আছে এমন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এবার ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে ছাত্রদের কাছে যাদের জনপ্রিয়তা আছে, গ্রহণযোগ্যতা বেশি, ছাত্রদের সঙ্গে ওতপ্রোত সম্পর্ক আছে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রদের থেকেও এবার প্রস্তাব নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী দেখছেন, খোঁজ-খবর রাখছেন, আমাদের ওপরও দায়িত্ব আছে। আমরাও খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কনসার্ন আছে আমাদের। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে আমরা সুপারিশ করবো। 

ঢাবির বাইরে থেকে নেতৃত্ব আসতে পারে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবসময় নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে নেতৃত্ব বের হয়নি এমন নয়। সাধারণত, ঢাকা বিশ্বেবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি হয়। সবকিছু বিবেচনায় রেখে এবার প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিবেন।

ইত্তেফাক/আরএজে