বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাবি কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় ফের খাবারের দাম বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ 

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২৫

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের দাম ফের বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ মিলে দুই টাকা ও অন্যান্য মিলে পাঁচ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, মানের দিকে না তাকিয়ে কয়েক মাস পরপর খাবারের দাম বাড়ানোতে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের কারণে এ বছরের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াসহ ১৭ হলে প্রতি বেলায় খাবারের পূর্ব মূল্য থেকে চার টাকা বাড়ানো হয়েছিল। মূল্য বৃদ্ধির ফলে দুপুরের খাবার ২৪ টাকার পরিবর্তে ২৮ টাকা এবং রাতের খাবার ১৮ টাকার পরিবর্তে ২২ টাকা করা হয়েছিল। সেখানে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছিল যে খাবারের মান বৃদ্ধি করা হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের পরিমাণটা সামান্য বেশি দিলেও আগের তুলনায় মানের কোনো উন্নতি হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিদিন একই ধরনের তরকারি দিয়ে খাবার পরিবেশন চলে। মাছ বা মাংসের উপস্থিতি থাকলেও তা নামমাত্র। এসব খাবারের মান উন্নত করার পরিমাণ একেবারেই নগণ্য। খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্নভাবে দাবি জানিয়ে আসলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির অজুহাত দিয়ে খাবারের মানের দিকে নজর দিচ্ছে না প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বকুল ইসলাম বলেন, ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এটা কী শিক্ষার্থী-বান্ধব নাকি শিক্ষার্থী স্বার্থ? যখন তখন অজুহাত দেখিয়ে খাবারের দাম বৃদ্ধি করছে। এইতো কিছুদিন আগেও মিল প্রতি চার টাকা বৃদ্ধি করেছে। এখন আবার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের উচিত ছিল খাবারের মান বৃদ্ধি করা। খাবারের মান এতোই খারাপ যে জেলখানার কয়েদিরাও এর চাইতে ভালো খাবার পায়। আমাদের টাকায় আমাদের খাবারের ব্যবস্থা হলেও সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে পুষ্টিহীন খাবার খাচ্ছি।

রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের সুযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে। কিন্তু সেটা কী হচ্ছে? কিছুদিন আগেও ক্যাফেটেরিয়াসহ হলগুলোতে খাবারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। খাবারের মান না বাড়িয়ে ঘন ঘন দাম বাড়ানোটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং শিক্ষার্থী পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা সকালের খাবার মাইনাস করে চলেও খাবারের দামের সঙ্গে দৌড়ে পারছে না। তাই বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ভর্তুকি দিয়ে খাবারের দাম ও মান ঠিক রাখা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রশাসক ড. এ কে এম আরিফুল ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পূর্বের দাম অনুযায়ী আমরা দীর্ঘদিন যাবত লোকসানে আছি। বিশেষ করে সাধারণ মিলে আমাদের বেশি লোকসান হয়। দৈনন্দিন প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী সাধারণ মিল খেয়ে থাকে। এভাবে লোকসান নিয়ে চলা আমাদের জন্য কষ্টকর। দাম বাড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করে সাধারণ মিলে দুই টাকা বাড়িয়ে ৩০ টাকা ও অন্যান্য মিলে পাঁচ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, নতুন করে দাম বৃদ্ধি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায়নি। এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। দাম বৃদ্ধি করতে চাইলে একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বৃদ্ধি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নতুন করে আবার দাম বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে আমি জেনে তারপর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবো।

 

 

ইত্তেফাক/আরএজে

ইত্তেফাক/আরএজে