রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘অসম্ভব জনপ্রিয় নয়, অভিনেতা হতে চেয়েছি’

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১৭:০৪

রওনক হাসান। মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই মেধাবী অভিনেতা কখনও আত্মপ্রচার করেন না। সমসাময়িকদের যে নিজের ঢোল পেটানো স্বভাব সেখান থেকেও দূরে তিনি। সম্প্রতি ওয়েব সিরিজ ‘বোধ’সহ বেশ কিছু কাজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কাজের যেকোনো ফর্মে নিজের যতটুকুই অভিনয়ের সুযোগ থাকে সেখানেই উজাড করে দেওয়ার সংকল্প এই অভিনেতার। কথা বললেন ইত্তেফাকের সাথে।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত আপনার ‘বোধ’ ওয়েব সিরিজটি দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে। সিরিজটিতে যুক্ত হওয়ার গল্প কেমন ছিল?

এটি মূলত একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের বোধের গল্প। পাশাপাশি এতে সমাজের নানা অসংগতি নির্মাতা অমিতাভ রেজা তুলে ধরেছেন। সিরিজটিতে ক্রাইম, থ্রিল থাকলেও নির্মাতা নিজের মতো করে সেগুলো বলতে চেয়েছেন। আমি যখন প্রথম গল্পটি শুনি তখন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম কবে স্ক্রিপ্ট হাতে পাবো। আসলে একটি চরিত্রে যুক্ত হতে যে বিষয়গুলো প্রয়োজন হয় তার সবই এই চরিত্রটিতে ছিল। যে কারণে সুযোগটা হাতছাড়া করিনি। এখন দর্শকরা প্রশংসা করছেন এতে আমি সত্যি অনেক খুশি।

সিরিজটিতে নেতিবাচক চরিত্রে আপনার দেখা মিলেছে। এটা এক্সপেরিমেন্ট ছিল কি-না? তাছাড়া এ ধরনের এক্সপেরিমেন্ট ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে ঝুঁকিপূর্ণ নয় কী?

দেখুন, আমি কিন্তু শুরু থেকেই তথাকথিত হিরোইজমে বিশ্বাসী নই। আমি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য প্রধান এবং নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছি। কিন্তু সবসময়ই মনে করেছি, আমি একজন অভিনেতা। কোনো চরিত্র জনপ্রিয়তা পেলে সে ধরনের চরিত্রে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছি। যে চরিত্র আমাকে রাতে ঘুমাতে দেয় না সেই চরিত্রগুলো আমি সবসময় খুঁজি।

অনেকেই বলেন, রওনক হাসাস যে মাপের অভিনেতা সেভাবে তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কোনো আক্ষেপ রয়েছে কি-না?

না, আমার কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ অভিনয়টা আমি ভালোবেসে করি। আমি কখনোই অসম্ভব জনপ্রিয় নয়, অভিনেতা হতে চেয়েছি। আমার কাজ অভিনয় করে যাওয়া। তারপর দর্শকরা গ্রহণ করলে, ভালোবাসলে সেটা আমার জন্য আনন্দের। আবার যিনি বলছেন, আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি তিনি মূল্যায়ন করলেও আমার জন্য বিরাট পাওয়া। তাছাড়া আমার সময় তো এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

রওনক হাসান

এর বাইরে অন্য কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

আগামীকাল থেকে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় আমার অভিনীত ‘পাতালঘর’ এবং ‘নকশি কাঁথার জমিন’ সিনেমা দুটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হচ্ছে। সামনের বছরের শুরুর দিকে হয়তো সিনেমা দুটি মুক্তি পাবে। এর বাইরে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘অন্তর্জাল’, ‘একটি না বলা গল্প’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা। পাশাপাশি আরও একাধিক সিনেমার শুটিং চলছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে নাটকে খুব কম অভিনয় করছেন। এটা কী চলচ্চিত্র-ওয়েব সিরিজের ব্যস্ততায়, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে?

আমি আসলে যে ধরনের চিন্তা বা মানসিকতা নিয়ে টিভিতে কাজ শুরু করেছিলাম সে ধরনের কাজ কিন্তু এখন হচ্ছে না। ইউটিউব আসায় ভিউ গুণে নির্মাণ হচ্ছে, মান দেখে নয়। টিভিগুলোও ভিউকে প্রাধান্য দিয়ে নাটক কিনছে এবং তাদের ইউটিউবে চ্যানেলে প্রচার করছে! অধিকাংশ নাটকই আমার রুচির বাইরে। তাই কখনও মনে হয়নি এ ধরনের নাটকে আমি অভিনয় করব। পাশাপাশি সিনেমা-ওয়েব সিরিজের ব্যস্ততা অনেকে বেড়েছে!

গল্প নির্ভর নির্মাণ বাড়ায় অনেকেই বলছেন প্রকৃত শিল্পীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আপনি কেমন দেখছেন?

দেখুন, আমাদের যে পরিমাণ সিনেমা নির্মাণ হওয়া কথা সেই পরিমাণ কিন্তু হচ্ছে না। অন্যদিকে হলের অবস্থাও বেহাল। যদিও হটাত্ করে আমাদের সিনেমা সুদিনের আভাস দিচ্ছে। এই ধারাটাকে সব দিক থেকে সাপোর্ট দিতে হবে। তাহলে হয়তো যারা অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়েছেন তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

কিন্তু সুদিনের আভাস মিললেও সিনেমার ওপর মামলা বা মুক্তিতে বাঁধার মতো নানা দিক সামনে আসছে। এতে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে কি-না?

হ্যাঁ, সেটা তো হচ্ছেই। কোনটা বলা যাবে, কোনটা যাবে না, কোনটা বললে অনুভূতিতে আঘাত লাগবে—এই বিষয়গুলো পৃথিবীর কোথাও নেই আমাদের দেশ ছাড়া। আমার মনে হয় এই আইনটির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। আমাদের নির্মাতারা এখনও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পায়নি। একজন নির্মাতা একজন ফিলোসোফার। সে যদি কাজে বাঁধা পায় তাহলে নতুন সৃষ্টি হবে কীভাবে!

ইত্তেফাক/বিএএফ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন