মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপি গণসমাবেশের নামে মুরগির মাংস খাচ্ছে: কাদের

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ০০:৩৭

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির সমাবেশগুলোতে খানপিনা ভালোই হচ্ছে। বিএনপি মনে হয় ভালোই আছে, কাঁথা, বালিশ, হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে সাত দিন আগে থেকেই সমাবেশস্থলে চলে যাচ্ছে। তারা গরুর মাংস খাচ্ছে, মুরগির মাংস খাচ্ছে। 

শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে গাজীপুর ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলে নির্বাচনেই হতে হয়। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। তারা এখন ক্ষমতার রঙিন খোয়াব দেখছে। খোয়াব যত পারেন দেখেন। খোয়াবে দিবাস্বপ্ন কতজনই তো দেখে। দেখেন খোয়াব তাতে কিছু আসে যায় না। 

তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক নাকি পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ বুঝে না। তাহলে ফখরুল সাহেব এটা আপনার মাথায় ঢুকলো কেমনে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা দয়া করে দণ্ডিত আসামি আপনার নেত্রীকে বাসায় রেখেছে। লজ্জা করে না, গণঅভ্যুত্থান করবেন। নেত্রীর মুক্তির জন্য একটি মিছিলও করতে পারেননি। দেশনেত্রী বলতে বলতে আপনার মুখ থেকে ফেনা বের হয়। দেখতে দেখতে ১৩ বছর। আমরা বলেছিলাম আন্দোলন হবে কোনো বছর? মানুষ বাঁচে কয় বছর?

ছবি: প্রতিনিধি

ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, টেলিভিশনের পর্দায় সিলেটের সঙ্গে গাজীপুরকে মিলিয়ে দেখুন। গাজীপুরে শুধু মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন আর সিলেটে ৫ জেলার মানুষ হাজির হয়েছে। তিনদিন আগে থেকে ঢল নামিয়েছে। কাঁথা, বালিশ, বিছানা-পত্র, হাণ্ডি-পাতিল সব নিয়ে নেতা-কর্মীরা সারাদেশ থেকে সিলেটে গেছে। যেখানে সমাবেশ সেখানে সাত দিনে আগে থেকে রওনা হয়। খানাপিনা ভালোই চলছে। পাতিলে পাতিলে খাবার, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর মাংস, মাছের কুপ্তার পর পেপসিকোলা। ভালোই আছে বিএনপি। ক্ষমতায় না থাকলে কি হবে এখনো তারা ভালোই আছে। 

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি।
 
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য এডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার, আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী ও ইকবাল হোসেন অপু এমপি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপি। 

সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল।

তিনি আরও বলেন, বিদেশির কাছে নালিশ করে বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। বিদেশিদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন না কোন দেশে তত্ত্বাবধায়ক আছে? দুনিয়ার অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও ঠিক সেইভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনার সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। ডিসেম্বরে খেলা হবে। আন্দোলনের মোকাবেলা হবে। নির্বাচনের খেলা হবে। ডিসেম্বর মাসে রাজপথ দখল করবেন বলেন। আমরা তো বলেনি। লাল কার্ড দেখাবেন, শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়ে বিজয় মিছিল করবেন। 

তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, খেলা হবে, প্রস্তুত হয়ে যান গাজীপুর। ভোট চুরির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে খেলা হবে। 

বিশেষ অতিথি ড. আব্দুর রাজ্জাক তার বক্তব্যে বলেন, অনেকে বলেছেন বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে কিন্তু দেশে দুর্ভিক্ষের চিহ্ন মাত্র নেই। আগামীতেও বাংলাদেশ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না। উত্তরবঙ্গে আগে মঙ্গা হতো। এখন আর মঙ্গার নাম শুনা যায় না। প্রধানমন্ত্রী কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন এনেছেন। তার সুফল আমরা ভোগ করছি। 

ছবি: প্রতিনিধি

শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরা  রং-বেরংয়ের ক্যাপ, টিশার্ট পরে এবং হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন, বাদকদল সহকারে বিভিন্ন থানা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সম্মেলনস্থলের বাইরে অবস্থান নেন। মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বাস-ট্রাকে করে শহরে প্রবেশদ্বারে পৌঁছান। পরে তারা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে হেঁটে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে রওনা দেয়। সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থল ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠের ফটকগুলো খুলে দেওয়া হয়। এ সময় মাঠের ভেতরে ঢুকার জন্য মিছিলকারীদের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মুহূর্তেই পুরো মাঠ লোকে-লোকারণ্য হয়ে যায়। সকাল সোয়া ১১টার মধ্যে সম্মেলনস্থল ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে ওবায়দুল কাদের গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দুই জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬ জন প্রার্থীদের নাম পড়ে শুনান। পরে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আতাউল্ল্যা মণ্ডলের নাম ঘোষণা করেন। 

ইত্তেফাক/পিও