সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

২০২১ সালের অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা গ্রহণ করলেন যারা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ১৩:০৬

দেশের পাক্ষিক ম্যাগাজিন অনন্যা প্রতিবছর বিভিন্ন শাখায় দশজন আলোচিত ও আলোকিত কৃতী নারীকে সম্মাননা প্রদান করে। এবারও নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দশজনকে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা প্রদান হয়েছে একজন বিশিষ্ট নারীকে। 

শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা ২০২১’ তুলে দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।

অনন্যা শীর্ষদশ ২০২১ সম্মাননা পেলেন যারা

সম্মাননা হাতে নাজনীন আহমেদ। ছবি: আব্দুল গনি
নাজনীন আহমেদ
, অর্থনীতিবিদ: নাজনীন আহমেদ ১৯৯০ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে এবং ১৯৮৮ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে নাজনীন প্রথমে ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’ (সিপিডি)—তে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট।

বিটপী দাশ চৌধুরী। ছবি: আব্দুল গনি
বিটপী দাশ চৌধুরী
, করপোরেট ব্যক্তিত্ব: বিটপী দাশ চৌধুরী বর্তমানে একটি মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংকের হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এবং ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিংয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ এবং পরবর্তী সময়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এবং ফিন্যান্স নিয়ে দেশের বাইরে এমবিএ করেন। তিনি ব্যাংকের মধ্যে নন—ব্যাংকিং কাজ করে থাকেন, যেখানে প্রতিটি দিন আসলে নতুন চ্যালেঞ্জ ও নতুন কর্মপরিকল্পনার।

ত্রপা মজুমদার।  ছবি: আব্দুল গনি
ত্রপা মজুমদার
, মঞ্চাভিনেতা ও নির্দেশক: বাংলাদেশের মঞ্চ অভিনয়ের কিংবদন্তি শিল্পীদ্বয় ফেরদৌসী মজুমদার ও রামেন্দু মজুমদারের কন্যা ত্রপা মজুমদার সুনাম অর্জন করেছেন মঞ্চ অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনাতেও। থিয়েটারের ‘পোহালে শর্বরী’ নাটকটিতে বাবা রামেন্দু মজুমদারের সঙ্গে সংযুক্ত নির্দেশনা দিয়েছেন ত্রপা। ইতিপূর্বে তিনি নিদের্শনা দিয়েছেন লালন ফকিরের জীবনী—নাটক ‘বারামখানা’। মার্কিন নাট্যকার লি ব্লেসিংয়ের ‘ইনডিপেনডেন্স’ অবলম্বনে ‘মুক্তি’ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন ত্রপা।

শাহিনুর আক্তার। ছবি: আব্দুল গনি
শাহিনুর
আক্তার, অদম্য সাহসী: সন্তানের বিপদে মায়েদের মনে যেন বিস্ময়কর শক্তি সঞ্চারিত হয়। এমনই এক কাহিনীর স্রষ্টা ইয়াকুবের মা শাহিনুর আক্তার। তার ছেলে ইয়াকুব লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে যান। ছেলেকে উদ্ধারের জন্য কুমিল্লার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একা লিবিয়ায় ছুটে যান মা শাহিনুর। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় মাফিয়াদের হাত থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে আনেন শাহিনুর আক্তার।

সালমা সুলতানা। ছবি: আব্দুল গনি
সালমা সুলতানা
, বিজ্ঞানী: বিজ্ঞানী সালমা সুলতানা বাংলাদেশের গবাদি পশু খাতের প্রথম নারী উদ্যোক্তা, পেশাদার ট্রেইনার ও উন্নয়নকর্মী। ২০২১ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে ১০০ এশিয়ান বিজ্ঞানীদের তালিকায় তিনি অষ্টম স্থান দখল করেন। সালমা সুলতানা বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি প্রাণিস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণকেন্দ্র মডেল লাইভস্টক অ্যাডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছেন।

রুদমীলা নওশীন। ছবি: আব্দুল গনি
রুদমীলা নওশীন
, প্রযুক্তিবিদ: বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্কলাসটিকা থেকে এ লেভেল শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান জোস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন রুদমীলা নওশীন। পরবর্তী সময়ে মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড মালটিমিডিয়া বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কনফিগ—ভিআর ও কনফিগ—আরবোটের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও।

শাহরিয়ার ফারজানা। ছবি: আব্দুল গনি
শাহরিয়ার ফারজানা
, আলোকচিত্রশিল্পী: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মেয়ে শাহরিয়ার ফারজানা আলোকচিত্রে ইতিমধ্যে শতাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার জীবনের দুর্বিষহ সময়ে সবচেয়ে বড় বন্ধু হিসেবে হাজির হয় আলোকচিত্রশিল্প। প্রতি বছরই অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারের বিরল পালক জমা হচ্ছে তার মুকুটে। ফটোগ্রাফি ছাড়াও শাহরিয়ার ফারজানা গত ৯ বছর ধরে ‘নারীকণ্ঠ’ নামের একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনায় যুক্ত রয়েছেন।

সান্ত্বনা রানী রায়। ছবি: আব্দুল গনি
সান্ত্বনা রানী রায়
, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক: মার্শাল আর্ট কন্যা সান্ত্বনা রানী রায় ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পাঁচটি আসরে স্বর্ণ জিতে নিজেকে সেরা প্রমাণ করেন। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০তম বিশ্ব তায়কোয়নদো প্রতিযোগিতায় তিনি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। ২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাঁচটি স্বর্ণ এবং একটি করে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন।

মোছাম্মত ইছমত আরা। ছবি: আব্দুল গনি
মোছা. ইছমত আরা
, নারী উদ্যোক্তা: মোছাম্মত ইছমত আরার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায়। একদিন বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পরচুলা তৈরির কারখানার সন্ধান পান তিনি। সেখানে ভর্তি হয়ে সেই কাজ রপ্ত করেন। তারপর নিজেই পরচুলা বানানোর কাজ শুরু করেন। এখন বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক হাজার নারী তার মাধ্যমে কাজ করছেন। ইছমত আরার প্রচেষ্টায় গ্রামের শত শত নারীর দারিদ্র্য ঘুচেছে।

জয়া চাকমা। ছবি: আব্দুল গনি
জয়া চাকমা
, ফিফার প্রথম বাংলাদেশি নারী রেফারি: রাঙামাটির মেয়ে জয়া ক্লাস ফোরে পড়ার সময় শিশু একাডেমিতে খেলার মাধ্যমে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেন। একপর্যায়ে জাতীয় নারী দলে জায়গা পান জয়া। ২০১২ সালে তিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। রেফারি হিসেবে শুরু করেন নতুন জীবন। ২০১৯ সালে ফিফার রেফারি হওয়ার পরীক্ষায় পাশ করার মাধ্যমে তিনি অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রথম ফিফা নারী রেফারি হওয়ার বিরল গৌরব।

কারুশিল্পী সরত মালা চাকমার হাতে পাক্ষিক অনন্যার আজীবন সম্মাননা তুলে দিচ্ছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। ছবি: আব্দুল গনি

এছাড়া বিশেষ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে কারুশিল্পী সরত মালা চাকমাকে। রাঙ্গামাটির তবলছড়ির মাস্টার কলোনিতে ৯০ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন সরত মালা চাকমা। সাত বছর বয়সে তার কারুশিল্পে হাতেখড়ি হয়। সরত মালা সারা জীবনে দেশ-বিদেশ থেকে জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। ২০১৬ সালে উইভার্স ফেস্টিভ্যালে তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এখন তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি কম হলেও, অন্য ভালো চোখ নিয়েই তিনি সেলাইয়ের কাজ করেন।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৩ সাল থেকে নারীদের শীর্ষদশ সম্মাননা দিয়ে আসছে পাক্ষিক অনন্যা। এ পর্যন্ত অনন্যা শীর্ষদশ সম্মানিত করেছে ২৮০ জন কৃতী নারীকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনিসহ উল্লেখযোগ্য বহু নারী এই সম্মাননা পেয়েছেন। 

ইত্তেফাক/এনএ/এএএম/এসটিএম