মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জলবায়ু সম্মেলনে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল গঠনে ‘ঐকমত্য’

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ২২:৫৪

ধনী এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিল গঠন নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশিত সময়ের চেয়েও দীর্ঘ হতে শুরু করে। গত ৯ নভেম্বর শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলন ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বরং ১৯ নভেম্বর বাড়তি দিনে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয় সম্মেলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সূত্রসহ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। 

সম্মেলনে অংশ নেয়া মালদ্বীপের পরিবেশমন্ত্রী আমিনাথ শোনা বলেন, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ' নিয়ে একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে, সেটি আজকে ভোটাভুটিতে অনুমোদিত হতে হবে।''

প্রসঙ্গত, মিশরের শারম আল শাইখে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ১৯৮টি দেশের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশ থেকেও সেখানে অনেকে অংশ নিয়েছেন। মিশরের সম্মেলনকেন্দ্রে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক যুবায়ের আহমেদকে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সালিমুল হক বলেন, ‘‘২৭তম কপ আমাদের জন্য একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সম্মেলন। আমি এটাকে বলি জলবায়ু পরিবর্তনের আসল রূপের যুগে প্রথম কপ। কারণ এখন আমাদের ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ' হচ্ছে, আগে হতো না। আগে ছিল যে আমরা কীভাবে ঠেকাবো। আমরা ঠেকাতে পারিনি।''

তিনি বলেন, অতএব নতুন একটা বিষয় এখানে আমরা আলোচনা করছি। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ আমরা কীভাবে আদায় করতে পারি।''

জলবায়ু সম্মেলনের এই পরিচিত মুখ বলেন, ‘‘আমাদের প্রথম সক্ষমতা হয়েছিল যে আমরা এটাকে এজেন্ডাতে আনতে পেরেছিলাম। এটা আমরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করেছি, পারিনি। এবারে আমরা সক্ষম হয়েছি। এবং এটা এজেন্ডাতে আনাতে গত দুই সপ্তাহ ধরে খুব ভালো আলোচনা হচ্ছিল। এখন আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি। এখন আমাদের দাবি হচ্ছে, এই কপে যেন আমরা নতুন একটা তহবিল নিয়ে সম্মত হতে পারি।'' 

‘‘আমরা আশা করি আজকে শেষ হবে। নাহলে আগামিকাল শেষ হবে,'' যোগ করেন হক।

জলবায়ু সম্মেলনের বাড়তি দিনে টুইটারে আয়োজিত ডয়চে ভেলের আলোচনায় অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির জানান যে, এবার বাংলাদেশের অর্জন হলো বাংলাদেশ ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ' ফান্ডের বিষয়টি এজেন্ডায় তুলতে পেরেছে। 

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ যা যা করে সেটাকে তুলে ধরার একটা সুযোগ থাকে কপ সম্মেলনে। আর্লি ওয়ার্নিং, অ্যাডপটেশন, উওমেন লেড এমার্জেন্সির মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।''

‘‘এবারের সম্মেলনে সরকারি পর্যায় থেকে আমাদের প্যাভেলিয়ন করা এবং অনেক ধরনের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করাটা ভালো দিক ছিল। তবে, আসল বিষয় হচ্ছে কার্বন নির্গমণ কমানো। সেখানে বাংলাদেশ কেন, কেউ কোনো অর্জন করতে পারেনি। কার্বন নির্গমন কমেনি,'' যোগ করেন তিনি।

ফারাহ কবির বলেন, ‘‘অ্যাডাপশনের ফান্ড নিয়ে যেটা প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটাও ফুলফিল হয়নি। এবং অনেকে মনে করেন লস এন্ড ডেমেজের কথা বললে এডাপটেশনের ফান্ড কমে যাবে। আবার অনেকে বলেন যে এখন দুঃসময়।

তার কথায়, ‘‘ভালো সময়েও তারা টাকা দেয়নি, অ্যাডপটেশনেও তারা প্রতিশ্রুতি মতো টাকা দেয়নি, মিটিগেশনে হয়ত একটু বেশি বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু তাও রিনিউবেল, গবেষণার জন্য যেভাবে করা উচিত করা হয়নি।''

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক শিল্পায়ন যুগের তুলনায় এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখার জন্য যা করা দরকার, তা তারা করবে। তবে এই বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

 

 

ইত্তেফাক/এসআর