সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রোনালদোর হাতে স্বপ্নের ট্রফি দেখার আশায় লেমোস

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫২

ফুটবলে অনেক রথী-মহারথীর জন্ম দিয়েছে পর্তুগাল। কিন্তু কখনো বিশ্ব জয়ের স্বাদ পায়নি। সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া। বাকি উল্লেখযোগ্য বলতে গেলে ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা। মূলত এর পরই বলতে গেলে উত্থান শুরু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পাঁচ বার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতলেও দেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাতে পারেননি কখনো। কাতার বিশ্বকাপে হয়তো শেষবারের মতো চেষ্টাটা করে যাবেন। কিন্তু পারবেন তো?

পর্তুগাল থেকে ৯ হাজার ৪৭ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশে বসে থেকে অবশ্য খুব একটা ভরসা পাচ্ছেন না আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস। তবে স্বপ্ন দেখতে দোষ কী! ইত্তেফাককে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জানালেন বিশ্বকাপে পর্তুগালকে নিয়ে নিজের ভাবনার কথা... 

  • পর্তুগালকে নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

লেমোস :পর্তুগালে প্রচুর তরুণ প্রতিভা আছে। যারা কি না ইউরোপে শীর্ষ পর্যায়ে খেলে থাকে। তাছাড়া রোনালদো, পেপে, জোয়াও মোতিনিওর মতো অভিজ্ঞরাও আছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো আমাদের কোয়ালিটি থাকলেও ‘কোয়ালিটি অব ফুটবল’ খুব ভালো নয়। সে কারণে কোচ ও দল কিছুটা সমালোচিত। তবুও আমি স্বপ্ন দেখছি। পর্তুগালের সব সময় সুযোগ থাকে। কিন্তু একই সঙ্গে আরো ভালো দলও আছে। তবে বিশ্বকাপ জিততে ভাগ্যর দরকার।

  • পঞ্চম বারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে রোনালদো। ক্যারিয়ারের ক্রান্তিলগ্নে এসে কি সেই অধরা শিরোপায় চুমু খেতে পারবেন তিনি?

লেমোস :রোনালদোকে নিয়ে সব সময়ই প্রত্যাশা থাকে। তবে পর্তুগালের মানুষরাও জানে সে তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। সে বুড়ো হচ্ছে এবং আগের মতো সেই ধার আর এখন নেই। তবু তাদের মধ্যে সব সময়ই একটা স্বপ্ন থাকে, সে ভালো পারফর্ম করে পর্তুগালকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেবে।

রোনালদোর বর্তমান পারফরম্যান্স তার পক্ষে কথা বলছে না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে বেশির ভাগ ম্যাচেই বেঞ্চ গরম করেছেন। পর্তুগালের বেলায়ও কি একই চিত্র দেখা যাবে?

লেমোস :তার যে স্ট্যাটাস, তাতে আমার মনে হয় না তাকে বেঞ্চে রাখার সাধ্য কারো হবে। এই দেশ ও ফুটবলকে অনেক কিছু দিয়েছে সে। তার কারণে পর্তুগাল এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। যদি সে পারফরম নাও করে থাকে তবুও তাকে খেলাবে। বর্তমানে বাজে সময়ের মধ্যে যাচ্ছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খুব একটা সুযোগ পাচ্ছে না। গোল-অ্যাসিস্ট সবকিছুই নিম্নমুখী।  তবে এটাও ভাবতে হবে, তার বয়স ৩৭ বছর, তরুণ নয়।  কিন্তু আমাদের হাতে তার মতো সেন্টার ফরোয়ার্ড কেউ নেই। যার ওপর আমরা ভরসা করতে পারি।  

  • বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে যেমন কেউ কেউ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানির ভক্ত প্রকাশ করেন নিজেকে। সেখানেও কি তেমনটা দেখা যায়?

লেমোস : না, পর্তুগিজরা কেবল পর্তুগালকেই সমর্থন করেন। বিশ্বকাপ নিয়ে এবার বড় রোমাঞ্চ কাজ করছে পর্তুগালের মানুষের মধ্যে। কারণ খেলা বলতে আমরা কেবল ফুটবলকেই বুঝি। আপনি যেখানেই যাবেন ফুটবলকে পাবেন। বাস্কেটবল বলুন বা অন্যান্য খেলা সেখানে আমরা তেমন একটা ভালো নই।

আট বছর ধরে পর্তুগালের ডাগআউট সামলাচ্ছেন ফার্নান্দো সান্তোস। ইউরো জিতেছেন, নেশনস লিগও জিতেছেন। কিন্তু তার খেলার ধরন নিয়ে খুব একটা খুশি নয় পর্তুগিজরা... 

লেমোস :সান্তোস খুবই অভিজ্ঞ একজন কোচ। ইউরো ও নেশনস লিগের শিরোপা তার হাত ধরেই এসেছে। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টগুলোতে আমরা ভালো খেলিনি।  পর্তুগালের মানুষরা আরো ভালো মানের ফুটবল দেখতে চায়। দেখুন জোয়াও কান্সেলো, রুবেন দিয়াজ, বের্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেজরা নিজ নিজ ক্লাবে দুর্দান্ত খেলছে। কিন্তু জাতীয় দলে তারা এর অনুবাদ করতে পারছে না। ইউরো জেতার পর থেকে তিনি একই ধরনের ফুটবল বারবার খেলিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ব্রাজিল, স্পেন, জার্মানিকে দেখুন, তারা তড়তড়িয়ে উন্নতি করে যাচ্ছে। বারবার একইভাবে খেললে তো আর একই ফল ধরা দেবে না।

  • পর্তুগালের বাইরে ফেভারিট হিসেবে কোন দলকে দেখছেন?

লেমোস :ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা শিরোপার দাবিদার। ইউরোপের মধ্যে জার্মানি ও ফ্রান্স আমার কাছে ফেভারিট। আমি মনে করি, ফ্রান্সের কোয়ালিটি আছে। তবে শিরোপা ধরে রাখা কঠিন হবে। তাদেরও সুযোগ আছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো এবার বেশি শক্তিশালী।

  • রোনালদোর প্রসঙ্গ উঠলে অবধারিতভাবেই চলে আসেন লিওনেল মেসি। এটা তার শেষ বিশ্বকাপ। তার হাতে শিরোপা দেখতে চাইবেন?

লেমোস :না। মেসির প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। যদিও মানুষ মনে করে, পর্তুগিজরা মেসি ও আর্জেন্টিনাকে পছন্দ করে না। অবশ্যই আমরা রোনালদোকে ভালোবাসি, তবে মেসি ফুটবলের আরেকটি দানব। ১২ বছর ধরে আমরা রোনালদো-মেসি দ্বৈরথ দেখেছি। যা আগে কখনো হয়নি।

  • কাতার বিশ্বকাপ কেমন হবে বলে মনে হচ্ছে?

লেমোস :প্রথমত আমি মনে করি, এটি খুবই স্পেশাল বিশ্বকাপ। কারণ অন্যান্য আসরের তুলনায় এবার ভিন্ন সময়ে খেলা হচ্ছে। খেলোয়াড়রা প্রচুর একাগ্রতা নিয়ে মাঠে নামবে। সাধারণত মৌসুমের শেষেই বিশ্বকাপ হয়ে থাকে। তখন বিশেষ করে ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যেত। কিন্তু এবার তারা ফর্মের চূড়ায় থেকেই খেলতে নামবে। সে কারণেই আমি মনে করি, বেশ ভালো একটি বিশ্বকাপ হবে।

 

ইত্তেফাক/ইআ