মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যেখানে যে প্রক্রিয়ায় বানানো বিশ্বকাপ ট্রফি

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২২, ০২:২১

কে বলে ইতালি কাতার বিশ্বকাপে নেই! দল হিসেবে খেলার সুযোগ না পেলেও নিশ্চিতভাবে ইতালিয়ানদের হাতের ছোঁয়া পড়ছে বিশ্বকাপে। ৩২ দলের ২৯ দিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন দলকে যে ঝকঝকে, চকচকে সোনার ট্রফির আদলে রেপ্লিকা ট্রফি দেওয়া হবে, সেটি যে বানানো হচ্ছে ইতালিতেই। ইতালির মিলানের ছোট্ট শহর পাদের্নো দুগনানোতে বানানো হচ্ছে এই রেপ্লিকা। তৈরি করছে ইতালির ট্রফি ও মেডেল প্রস্তুতকারক কোম্পানি জিডিই বের্তোনি।

৩৬.৮ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও ৬.১ কিলোগ্রাম ওজনের মূল ট্রফিটির নকশা করেছিলে ইতালিয়ান শিল্পী সিলিভিও গাজ্জানিগা, ১৯৭১ সালে। যে ট্রফিটি ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ জেতা দল পশ্চিম জার্মানিকে দেওয়া হয়। ফিফার মালিকানায় থাকা এই ট্রফি ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের নাম খোদাই করে তুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রফিটি হাতে পাওয়ার পর সেটি আবার জিডিই বের্তোনিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। মূল ট্রফির পরিবর্তে উদযাপনের জন্য চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হয় রেপ্লিকা ট্রফি। মূল ট্রফিটি বের্তোনি নিজেদের কাছে সংরক্ষণ রাখার পর ফিফার কাছে ফিরিয়ে দেয়।

প্রশ্ন হলো, এই রেপ্লিকার প্রতিলিপি কীভাবে তৈরি করে জিডিই বের্তোনি? শুরুতেই পিতলের কাঠামো তৈরি হয়। পরে ধাতু একটি বিশেষ পাত্রে ঢালা হয় (যা মূল বিশ্বকাপের নকশার মতো), যা প্লাস্টার কাস্ট (ঢালাইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছাঁচ)) তৈরি করে। সেটিকে ডাই গ্রিন্ডিং দ্বারা ছেকে অতিরিক্ত ধাতুগুলোকে অপসারণ করে ছোট হাতুড়ি দিয়ে এটি পরিমার্জন করা যায়। এরপর ট্রফির ওপর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যোগ করা হয়, বিশেষ করে পৃথিবীকে আগলে ধরে রাখা সেই দুটি মানবহাতের আকার। পরে আরও পরিমার্জন করে এটিকে নিখুঁত দেখানোর জন্য ভারী যন্ত্র দিয়ে পলিশ করা হয়।

সেখান থেকে ট্রফিটি গ্যালভানিক (তাড়িত) বিভাগে নিয়ে আলট্রাসোনিক ক্লিনিংয়ের মাধ্যমে ট্রফিটি যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়। যা ধাতুর প্রভাবও বাড়ায়। এরপর ট্রফিটিতে গিলডিং বাথ দেওয়া হয়, গিলডিংয়ের মাধ্যমে মূলত ট্রফিটিতে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। ট্রফিটি আরও চকচকে করতে পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ পানিতে পরিস্কার করা হয়। ভিত্তিমূলে ম্যালাকাইট সবুজ মার্বেল প্রয়োগের পর ট্রফিটি তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। তৈরির পর ট্রফিটি বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়। বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রদর্শনের আগে ট্রফিটিকে শেষ বারের মতো পরিষ্কার হয়। এভাবে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে তিন মাস। জয়ী দলকে দেওয়া সোনার পদকগুলোও তৈরি করে জিডিই বের্তোনি। শুধু বিশ্বকাপই নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ ও সুপারকাপের ট্রফিও তৈরি করে জিডিই বের্তোনি।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ