শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জিম্বাবুয়ে ছেড়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি ডাক্তার ও নার্স

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৪৬

জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা দলে দলে দেশ ছাড়ছেন।আফ্রিকার এই দেশের স্বাস্থ্য খাতকে চরম আতঙ্কে ফেলে তারা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ২০২১ সাল থেকে জিম্বাবুয়ে ছেড়েছেন চার হাজারেরও বেশি চিকিৎসক ও নার্স। সোমবার (২১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিম্বাবুয়ের বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্য কর্মী গত এক বছরে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য পরিষেবা বোর্ডের (এইচএসবি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোববার (২০ নভেম্বর) এ তথ্য জানায়।

এইচএসবি’র চেয়ারপারসন ডা. পলিনাস সিকোসানার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ২০২১ সাল থেকে চার হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী বিদেশে চলে গেছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৭০০ জনেরও বেশি নিবন্ধিত নার্স রয়েছেন যারা গত বছর পদত্যাগ করেছেন। আরও ৯০০ জনেও বেশি নার্স এই বছর চাকরি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

এইচএসবি’র চেয়ারপারসন ডা. পলিনাস সিকোসানা

মূলত অর্থনৈতিক সংকট চলছে জিম্বাবুয়েতে। মুদ্রাস্ফীতি স্থানীয় মুদ্রাকে আরও দুর্বল করার কারণে স্বাস্থ্য কর্মীরা মার্কিন ডলারে বেতন প্রদানের দাবিতে চলতি বছরের জুন মাসে ধর্মঘটে গিয়েছিলেন।

জিম্বাবুয়ের ডাক্তার ও নার্সরা মূলত ব্রিটেনে কাজ খুঁজে পাচ্ছেন। আর এটিই জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্য খাতকে মারাত্মক সংকটে ফেলেছে। ফলে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে।

জিম্বাবুয়ের ডাক্তার ও নার্সরা মূলত ব্রিটেনে কাজ খুঁজে পাচ্ছেন

এছাড়া চলতি বছরের আগস্টে জিম্বাবুয়েতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। হামে আক্রান্ত হয়ে ১৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই সময়ে এই রোগের প্রাদুর্ভাব এতটাই তীব্র ছিল যে মাত্র এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।

বছরের ওই সময়টাতে হামের সেই প্রাদুর্ভাব জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্যখাতের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল। ওষুধের ঘাটতি ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে আফ্রিকার প্রধান এই দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে ভুগছে।

ইত্তেফাক/ডিএস