সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

৪ বছর পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৫২

হত্যা মামলার ৪ বছর পর মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিরাজগঞ্জ পিবিআই। চলতি মাসের ২০ তারিখে খুলনা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলাম হ্যাপিকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে সিরাজগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হ্যাপি। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। 

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার রেজাউল করিম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মামলার বিবরণ দিয়ে জানায়, ২০১৯ সালের মার্চ ১৮ তারিখে নাটোর কিষোয়ান এগ্রো লিমিটেডের ট্রাকচালক সাহাব উদ্দিন (৫০) ও হেলপার ইলিয়াস (২০) ঢাকার মেঘনা ফ্রেস কোম্পানি থেকে বিকাল চারটার সময় ৬০ ড্রাম সুপার পাম্প তেল নিয়ে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে চোরাই তেল চক্রের খপ্পরে পড়ে ড্রাইভার ও হেলপার। পরে তাদের হত্যা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়িতে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ট্রাকে ৪৪ ড্রাম তেল নিয়ে পালিয়ে যায়। 

শাহজাদপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারসহ অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার করে। কিষোয়ান লিমিটেডের পক্ষে মো. মামুন হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই দায়িত্ব পান।

পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মামলাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটন পূর্বক ০৫ (পাঁচ) জন আসামি গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্য মতে, ১৯ (ঊনিশ) ড্রাম সুপার পাম্প তেল উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে থেকে ০২ (দুই) জন আসামি বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিও প্রদান করে। আসামিদের দেওয়া তথ্য মতে, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার চোরাই তেল চক্রের একজনের কাছে তেল বিক্রির জন্যই ট্রাকটি নাইমুড়িতে যায়। কিন্তু আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা চক্রটি ড্রাইভার ও হেলপার জিম্মি করে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের হত্যা করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। 

আরও জানা যায়, এ মামলার মূল আসামি জনৈক হ্যাপী। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা। কিন্তু তার প্রকৃত ঠিকানা সেই মুহূর্তে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আরও গভীর তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চুয়াডাঙ্গা আলোকদিয়া থানার রফিকুল ইসলাম হ্যাপীকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে হ্যাপী ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের কারণে তাকে গ্রেফতার করতে খানিকটা সময় লাগে। 

সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর খুলনা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইতিমধ্যেই হ্যাপীর স্বীকারোক্তি ড্রাইভার সাহাব উদ্দীন ও হেলপার ইলিয়াসকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে সে। 

ইত্তেফাক/পিও