সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা: পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৮:২৩

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে পাঁচ ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার নরসিংহ মর্ণেয়া গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে আবুজার রহমান (২৮), হান্নানের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৭), মতিয়ার রহমান মুন্সির ছেলে নাজির হোসেন (৩২), আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (২৯) এবং আমিনুর রহমান (২৯)। এদের মধ্যে আলমগীর হোসেন পলাতক রয়েছে।

এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আবুজার রহমানের সঙ্গে ভুক্তভোগী শাহীনার (১৬) প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। শারীরিক সম্পর্কে রূপ নিলে এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় আবুজার। ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ১৪ মে শাহীনার বাবা আইয়ুুব আলী তার মাকে নিয়ে লালমনিরহাটে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। এ সময় শাহীনা ও তার ১২ বছর বয়সী ভাগনি বাড়িতে একা ছিলো। এই সুযোগে অভিযুক্ত আবুজার সহযোগীদের নিয়ে সন্ধ্যায় শাহীনার বাড়িতে গিয়ে তাকে ডেকে পাশের একটি ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। ওইদিন রাতে আইয়ুব আলী বাড়িতে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে শাহীনার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আইয়ুুব আলী। প্রায় সাত বছর মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। 

বাদীপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে আসামীপক্ষের কোণো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত না থাকায় মতামত পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/পিও