রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সমন্বয়ক অমি রিমান্ডে

পরিকল্পনা ছিল ৪ জঙ্গি ছিনতাইয়ের!

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৬

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ঢাকা সিএমএম আদালত চত্বর থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি। এই তথ্য জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ (সিটিটিসি)। বিশেষায়িত এই ইউনিট আরও দাবি করেছে, জঙ্গিদের টার্গেট ছিল হাজিরা দিতে আসা ১২ সদস্যদের মধ্যে চার জনকে ছিনিয়ে নেওয়া। এই চার জনের মধ্যে প্রধান টার্গেট ছিল আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে শামস। তবে ঐ দিন পালানোর সময় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে অমিকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি।   

ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। এদিকে বৃহস্পতিবার মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সিটিটিসি প্রধান জানান, ছিনতাই করা সদস্যদের চলাফেরার (হাতখরচ) জন্য মোটা অঙ্কের টাকাও সেদিন আদালতে নিয়ে যায় অমি ওরফে রাফি। ছিনতাইয়ের দিন পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের মোটা অঙ্কের টাকা হাতখরচ দেয় সে। তিনি বলেন, আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা বরখাস্তকৃত মেজর জিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে সংগঠনের আসকরি শাখার সদস্যদের রিক্রুট করত অমি। আদালত পাড়া থেকে পুলিশের ওপর হামলা করে জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ছিলেন অমি। জেলে অবস্থান করা সদস্যদের সঙ্গে বাইরের ছিনতাইয়ের নেতৃত্বে থাকা সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। গ্রেফতার মেহেদী হাসান অমি সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং বিভিন্ন মামলায়  গ্রেফতার আসামিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত

অমির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ডিএমপির মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর এবং বাড্ডা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনটি মামলা হয়। এছাড়া ২০১০ এবং ২০১২ সালে সিলেট কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি মামলা রয়েছে। আসামিদের ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

সিটিটিসি প্রধান জানান, ১৭ সালে অমি জামিনে ছাড়া পায়। জামিন পাওয়ার পর থেকে সে নিয়মিত হাজিরা দিত, এর ফলে বন্দি থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। যখন আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়, তখন অমির মাধ্যমে বন্দি জঙ্গিদের অবগত করা হয়। যারা ছিনিয়ে  নেবে, তাদের সঙ্গেও সমন্বয় করেন অমি। তারই অংশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটে।

ছবি: সংগৃহীত

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর  দুপুরে পুরান ঢাকার জনাকীর্ণ আদালত থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) নেতা মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাবকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন