শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রংপুরে প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসায় মিলছে সুফল

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১৭:০৮

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে শিশু বিকাশ কেন্দ্রে চলছে প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর-যুবক এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে। প্রায় ১২ বছর আগে এ চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হলেও এর সুফল এখন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে চিকিৎসা নিয়ে ১২ হাজারের অধিক শিশু সুফল ভোগ করছে।

বিশেষায়িত এ চিকিৎসাকেন্দ্রে উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলার শারীরিক ও মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ারা শিশু-কিশোররা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। নামমাত্র ১০ টাকা খরচে পাওয়া যায় চিকিৎসা। পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম প্রতিদিন কাজ করছেন কেন্দ্রটিতে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিশু বিকাশ কেন্দ্রের প্যারামেডিক ডা. মো. ইনতেহাজ মিয়া।

লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিবন্ধী শিশুর মা আসমা আক্তার বলেন, আমার সন্তানের বয়স ২৭ মাস চলছে। সে হাঁটতে পারে না, ডাক্তার দেখালাম। ডাক্তার সাহেব দেখে প্রয়োজনীয় ব্যায়াম ও স্টিমুলেশন শিখিয়ে দিয়েছেন। ওষুধ দিয়েছেন এবং বলেছেন, শিশুটি অল্প কয়েক দিনের মধ্যে হাঁটতে শুরু করবে। থেরাপি শেষ হলে আমার সন্তান অনেকটা সুস্থ হয়ে যাবে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ফটক। সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার সোনাতলা থেকে ১১ মাসের শিশুকে নিয়ে এসছেন সাম্মিয়ারা বেগম। তিনি বলেন, আমার শিশুর জন্ম হয় নয় মাস বয়সে। তার ঘাড় শক্ত ছিল না ছয় সপ্তাহ। চিকিৎসার পর এখন অনেকটা সুস্থ হতে শুরু করেছে। আমি আমার শিশুকে এখানে তৃতীয়বারের মতো চিকিৎসা নিতে নিয়ে এসেছি।

রংপুর শিশু বিকাশ কেন্দ্রের চাইল্ড হেলথ ফিজিশিয়ান আব্দুল্লা আল মাসুদ বলেন, এ কেন্দ্রে প্রতিবন্ধীতা নিয়ে আসা যে কোনো শিশু-কিশোরদের চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় করি। প্রয়োজনীয় ব্যায়াম-থ্যারাপি অথবা সাইকোলেজিক্যাল এসেসমেন্টের জন্য পরামর্শ দেই। এছাড়া অন্য কোনো বিভাগের ফিজিক্যাল মেডিসিন, নিউরোমেডিসিন, চক্ষু, নাক, কান, গলা ও মানসিক নিউরো সার্জারি সমন্বয়ে প্রয়োজন হলে সে বিভাগে রেফার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। সঠিক ও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের ধীরে ধীরে সুস্থ করা সম্ভব।

রংপুর জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরর আলী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এই বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিজ্ঞজনেরা। উত্তরাঞ্চলে অনেক গরীব মানুষ আছে, যারা অর্থাভাবে তাদের প্রতিবন্ধী-অটিজম শিশুদের চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের জন্য এ উদ্যোগ অনেক সুফল নিয়ে আসবে বলে মনে করি।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আহাদ শাহ বলেছেন, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের পুরোপুরি সুস্থ করা সম্ভব। চাইল্ড ফিজিসিয়ান প্রথমে শিশুকে দেখে এবং যে ওষুধের দরকার তা প্রয়োগ করেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরিফুল হাসান জানান, অনেকে হাঁটতে পারছে না, অনেকে কথা বলতে পারছে না। সঠিক ও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের পুরোপুরি সুস্থ করা সম্ভব। নামমাত্র খরচে চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলার ৫০ হাজারেরও বেশি শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুরা। মাত্র দশ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা নিচ্ছে তারা। একজন শিশু বিশেষজ্ঞ, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন ফিজিওথেরাপিস্টসহ ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে এই কেন্দ্রে। প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলার বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও গ্রমাঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে শিশু সন্তানের অবিভাবকেরা।

[প্রতিবেদনটি বিএনএনআরসি’র তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য সাংবাদিকতায় মিডিয়া ফেলোশিপ এর আওতায় প্রস্ততকৃত]

ইত্তেফাক/এসকে