শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাশিয়ানদের পদচারণায় রূপপুর গ্রাম বদলে হয়েছে 'রুশপুর' 

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৩৯

রূপপুর পারমাণবিকে রাশিয়ানদের পদচারনায় প্রত্যন্ত রূপপুর গ্রামে লেগেছে বিদেশি শহরের হাওয়া। যে কারণে রূপপুরকে অনেকেই এখন বলছে 'রুশপুর'। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে বদলে গেছে ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম। 

এইতো সেদিনের কথা, মাত্র সাত বছর আগে সন্ধ্যা হলেই যেখানে কালো গভীর রাতের নিকষতা-নীরবতা নেমে আসত। সেই এলাকা এখন রাত-দিনের কর্মচঞ্চলতায় মুখর। প্রায় ৫ হাজার রাশিয়ান-বেলারুশিয়ান নাগরিকের পদচারণায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিয়েছে। পদ্মার চরের জনশূন্য জমিতে বিদেশের আদলে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন আবাসিক ভবন, ঝলমলে শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্টসহ অসংখ্য দোকানপাট।

কেনাকাটায় ব্যস্ত রাশিয়ান নাগরিকেরা

রূপপুরের মানুষ কখনো ভাবেনি যে ভাষা শিখে বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে বয়ে এনেছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। স্থানীয়রা যোগাযোগ, ভ্রমণ, বাণিজ্য বা সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য রাশিয়ান ভাষা শিখেছে। রাশিয়ান সংস্কৃতির একটি নতুন ক্ষেত্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে পুরো এলাকায়। দোকানের সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে মূল্য তালিকায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলার জায়গা নিয়েছে রাশিয়ান ভাষা। 

দোকানের সাইনবোর্ডেও রাশিয়ান ভাষা

২০১৫ সালে রূপপুর ও গ্রীণসিটির নতুন হাট এলাকায় শুধু কাঁটাতারের বেড়া আর ছিল জরাজীর্ণ কয়েকটি বন। চারিদিকে ধুলোমাখা ফাঁকা মাঠ আর দুই-একটি অস্থায়ী স্থাপনা। পাকিস্তান আমলের ভবনগুলো ছিল বিষধর সাপের অভয়ারণ্য। ঝোপ-জঙ্গলে ঢাকা একতলা বাড়িগুলো ছিল ভয়ংকর। দিনের বেলায়ও সবাই সেখানে ঢুকতে ভয় পেত। এই জায়গাটা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। শুধু রূপপুর নয়, পার্শ্ববর্তী পাকশী, সাহাপুর ও ঈশ্বরদীতেও এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। বদলে গেছে জীবনযাত্রা। বিদেশি সংস্কৃতির ছোঁয়া লেগেছে স্থানীয়দের জীবনে। ফল ও সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এবং কর্মচারীরা রাশিয়ান ভাষা শিখেছেন।

ধুলোবালি, জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি ও ছোট ছোট দোকানপাট এখন আর নেই। বাণিজ্যিক, স্কুল, সুউচ্চ ভবন, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ, রিসোর্টে সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন নান্দনিক কর্মকাণ্ডে ভরপুর। বাঙালির পাশাপাশি এই এলাকা রুশসহ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার লোকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাঁচা বাজারগুলোতেও রাশিয়ানদের ছোঁয়া লেগেছে। স্থানীয় রিকশাচালকরাও চলনসই কিছু কিছু  রুশ ভাষা শিখেছেন।

নিত্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় ব্যস্ত রাশিয়ান নাগরিকেরা

পদ্মা নদীর তীরে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পে হাজার হাজার বেকার যুবকের চাকরির সুযোগ হয়েছে। ভাগ্য বদলের পাশাপাশি বদলে গেছে তাদের সামাজিক চিত্র। এছাড়াও হোটেল, রিসোর্ট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাকশী, সাহাপুর, রূপপুর ও ঈশ্বরদী শহরে গড়ে উঠেছে বহু বাণিজ্যিক কেন্দ্র, আধুনিক শপিংমল, সুপারশপ, রিসোর্ট ও তারকা হোটেল। উন্নতমানের হাসপাতালও নির্মাণ করা হয়েছে।

গ্রীণসিটির সংলগ্ন প্রকল্পের সাইট অফিসের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রকল্পে প্রায় ২৫ হাজার দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে রাশিয়া, বেলারুশ, ইউক্রেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মী রয়েছেন।

ইত্তেফাক/এআই