বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গ্রন্থলোক

বড়াকোঠা ও ডাকবাংলো গণহত্যা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ২১:১২

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন ‘গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ প্রকল্পের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র’। এই কেন্দ্রের ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন নির্ঘণ্ট গ্রন্থমালা’র আওতায় এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কিত অনেক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থমালার ১১২-১১৩ নম্বরের বিষয় দুটি হচ্ছে গবেষক-অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান শাহীন রচিত ‘বড়াকোঠা গণহত্যা’ এবং অধ্যক্ষ আরজু নাসরিন পনি কৃত ‘ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ডাকবাংলো গণহত্যা’।

‘বড়াকোঠা গণহত্যা’ অংশে ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানটির তত্কালীন অবস্থা, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, গণহত্যা-নির্যাতনের পটভূমি ও বিবরণ, গণহত্যা নির্যাতনকারীর পরিচয়, ৮ জন ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর মৌখিক ভাষ্য, শহিদ পরিবারের ৫ জন সদস্যের মৌখিক ভাষ্য, তাঁদের জীবন-সংগ্রাম, স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়াসসহ মূল্যায়নে বিন্যস্ত হয়েছে। এই অংশের শেষে ৭০ জন শহিদের শনাক্তকরণ তালিকা এবং ১৩ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারসহ তথ্যপঞ্জি সংযোজিত।

পাকিস্তান সামরিক   বাহিনী ১৯৭১ সালে (মার্চ-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের নিধনকল্পে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্যাম্প আক্রমণকালে সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের অন্যতম দৃষ্টান্ত বড়াকোঠা গণহত্যা। এই গণহত্যায় নির্বিচারে হিন্দু নিধনসহ অনেক শিশু ও নারীকে হত্যা করা হয়। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়ন বিল ও জলমগ্ন হওয়ায় পাকবাহিনী এ অঞ্চলে সংঘটিত গণহত্যায় গানবোট ও স্পিডবোট ব্যবহার করে। ফলে, মুক্তিযুদ্ধকালীন বড়াকোঠায় আত্মোৎসর্গকৃত শহিদের পরিচয় জানা যায়নি।

ভূমিকা, ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানটির তত্কালীন অবস্থা, পরিপার্শ্ব, গণহত্যা-নির্যাতনের পটভূমি ও বিবরণ, ৩ জন শহিদের জীবনী, গণহত্যা-নির্যাতনকারীর পরিচয়, সংশ্লিষ্ট জীবন-সংগ্রাম, স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়াস ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ডাকবাংলো গণহত্যা’ অংশটি বিন্যস্ত। এই অংশের শেষে ১৫ জন শহিদের শনাক্তকরণ তালিকা ও তথ্যাদি সংযোজিত হয়েছে।

ডাকবাংলো গণহত্যায় কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছে, শহিদের তালিকায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার অন্তর্ভুক্তি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষজনকে ডাকবাংলোয় আটক, স্থানীয় আলবদরের সহায়তায় হত্যাযজ্ঞ সংঘটন, হত্যার পর অধিকাংশ লাশ ব্রহ্মপুত্র নদে নিক্ষেপ প্রভৃতি।

১৯৭১ সালের নয় মাসব্যাপী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় ‘পোড়ামাটির নীতি’ অবলম্বনে বাংলাদেশের সর্বত্র গণহত্যা সংঘটিত করে। বাংলাদেশের গণহত্যার ইতিহাস ব্যতীত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা অসম্ভব। মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার ইতিহাসে গ্রন্থটির তাত্পর্য অনস্বীকার্য। উন্নত ছাপা ও উত্কৃষ্ট কাগজে এক মলাটে গণহত্যার দুটি ঘটনা অনুসন্ধিত্সু গবেষক ও পাঠককে প্রভূত সহায়তা করবে।

বইয়ের প্রচ্ছদ

বড়াকোঠা গণহত্যা
মো. মনিরুজ্জামান শাহীন

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ডাকবাংলো গণহত্যা
আরজু নাসরিন পনি

প্রকাশক: গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র
প্রকাশকাল: জুন ২০২২
প্রচ্ছদ: তারিক সুজাত
মূল্য: ৩০০ টাকা

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন