রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প ঙ্ ক্তি মা লা

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩:৫৫

কুমারী কথন

মাকিদ হায়দার

ভাড়া থাকি দোতলা বাড়িতে।
বাড়িঅলা—ডানে বামে তাকায় না ফিরে
এমনকি, কোনোদিন ভাড়া নিতে আসে না আমার কাছে।
কুড়িবার—নিজে গিয়ে দিয়ে এসেছি ভাড়ার টাকা
মালিকের হাতে—

ভাড়া দিতে গিয়ে দেখি জানালায় একজন আছেন দাঁড়িয়ে
কোনোদিন বলেনি কথা আমার সাথে
তার সময় হলো না, ডানে বামে ফিরে তাকাবার।

আমার একা একা—রাত কাটে বাড়ির ছাদে
বাড়িঅলা গনি সাহেবের মেয়ে চোখের সামনে দিয়ে
কোনো দিকে না তাকিয়ে নেমে যান সিঁড়ি বেয়ে।

বাসে গিয়ে বসে থাকে সবার পেছনে
কেউ যেন তার দিকে না ফেরায় চোখ
তার পেছনে পেছনে আমি গিয়ে উঠি বাসে।
তিনি নেমে যান যেখানে সেখানে,
তাঁর খুশিমতো।

আমার সময় হলেও কোনোদিন হলো না তার
ডানে বামে ফিরে তাকাবার।
চলাফেরা করি একা, খুব সাবধানে
কাউকে না জানিয়ে ছেড়েছি বাড়ি।

মেয়েটির চোখে হয়তোবা পাথর বসানো ছিল
কোনোদিন দেখেনি আমাকে।
শুনেছি অনেক পরে
তার নাম নাকি ছিল কৃপণ কুমারী।

-----------------------------------

কেউ একজন

সারওয়ার-উল-ইসলাম

কেউ একজন এই আমাকে বাসত ভালো কিশোরকালে।
ছোট্ট ভেবেই সেই বয়সে ঠোনা দিতাম টেপলা গালে।
কলেজ গমন, প্র্যাকটিক্যালের খাতায় সে নাম লিখত আমার
জামার বোতাম খুলে পড়ায় দেয় লাগিয়ে বোতাম জামার।
নানা কথার ফুলঝুরিতে দেখত আমায় অন্য চোখে
চলাফেরায় সন্দেহ ঠিক করত তখন পাড়ার লোকে।
শীত বিকেলে হালকা হাওয়ায় চনমনে হয় শরীর যখন
জানতে পারি বাসত ভালো কষ্ট আমার লাগে তখন।
কেটে গেছে অনেক বছর নদীর পাড়ে বটের ঝুরি
পানি লেগে কালচে এখন উদাস হয়ে একলা ঘুরি।
কেউ একজন বাসত ভালো মেঘলা রাতে বৃষ্টি শেষে
বলবে না আর কেমন আছেন? টেপলা গালে মিষ্টি হেসে।
প্রথম শাড়ি পরে আমার সঙ্গে অনেক দূরে যাওয়া
বিকেল শেষের মিষ্টি রোদে সাক্ষী আছে শীতের হাওয়া।
কেউ একজন বাসত ভালো ভাবি যখন একা হলে
ভাবনা আসে বলব কী যে হঠাৎ পথে দেখা হলে...

-----------------------------------

ভোর রোদে

দুলাল সরকার

ভোর রোদে এখনো শিশির
বগা-বগি এখনো উদাস মাঠে 
শঙ্খ-শুভ্র গ্রীবা উঁচু 
গুটি-গুটি পায় হাঁটে,
কিছু দূরে বগারে ডাকে—
‘দ্যাহো দ্যাহো ক্যামোন ধানের ক্ষ্যাত
ধান দোলা, মাডি-কোষ
ওলানে দুধের ভার...
কী জানি কদিন পর এই মাঠে
নিরীহ শূন্যতা রবে...তুমি আমি’!

হঠাৎ বগির পায়ে টান পড়ে, চেয়ে দেখে 
চাষির পাতানো ফাঁদে পা জড়িয়ে
বগি কাঁদে...পরোমুখি এই কি
জীবন তবে পাখি ও মানুষ?

-----------------------------------

অবসন্ন অনুযোগ

বীরেন মুখার্জী

নির্বাচিত অন্ধকারে দু-একটি হেমন্তমাছি
রাত্রিসমুদ্র ডিঙিয়ে প্রদক্ষিণ করে গোলার্ধ;
এমন তো নয়, তাদের ইচ্ছের বিপরীতে—
বসিয়ে রেখেছি উদ্ধত খড়্গ কিংবা শূন্যতল!

একচোখা দৈত্যের মতন দাম্ভিক হাওয়া
দখল নিয়েছে দেখো সমূহ অবসর, এখনই
বেরিয়ে পড়া যায় ভেজা রংয়ের পৃথিবীতে
জীবন ঘষে তুলে আনা যায় আগামীর দিন।

এ রকম অসংখ্য প্রস্তাবনা ঘিরে যখন—
প্রতিধ্বনি রচনায় শশব্যস্ত সময় পার করছি
নৈঃশব্দ্যকুলে তখন শব্দেরা মেতে ওঠে
সুর তোলে ক্ষুধাক্লান্ত মহাফেজখানার অন্তরে।

ক্ষুধা মূলত ধনিকশ্রেণির বিনোদনের নাম
বৈশ্বিক বোধ সম্মিলনে আগাগোড়া দেবচন্দন
তবুও শিশিরে মোড়া অবসন্ন অনুযোগগুলো
অনায়াস—ছেড়ে যায় সময়ের আর্দ্রখেত।

-----------------------------------

প্রেমের অকবিতা

ইমরান মাহফুজ

হাতে ছুঁই না নদী
ভিজে যাই যদি
শুকিয়ে গেলে বালি
আপনা জল ঢালি।

তবু ভিজে মন
কারণে অকারণ
মন মননে থাকে
পড়ছি বিপাকে!

মাঝরাতে হয় না ঘুম
চাঁদের খেয়ায় কফির ধুম
বৃষ্টি বাড়লে আপন পর
সঙ্গীবিহীন একলা ঘর।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন