শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কিয়েভে বিদ্যুৎ সংকট 

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৬:০২

ইউক্রেনের কিয়েভে রোববার থেকে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা ছিল। এদিকে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে। লাখ লাখ মানুষ যারা ইউক্রেনের রাজধানীতে এবং এর আশেপাশে বসবাস করে তাদের জন্য এখনও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। খবর রয়টার্স। 

গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনারগো শনিবার বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা সারাদেশে বিধিনিষেধ এবং ব্ল্যাকআউটের মধ্যে প্রয়োজনীয় চাহিদার মাত্র তিন-চতুর্থাংশ বরাদ্দ করতে সক্ষম হয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ইউক্রেনের ২৭টি অঞ্চলের মধ্যে ১৪ টিতে এবং কিয়েভের প্রতিটি অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।’

জেলেনস্কি রাতের ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়লে বিভ্রাটের ঘটনা বাড়তে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি আবারও প্রমাণিত যে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে ব্যবহার করা এখন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

ছবি: রয়টার্স

ইয়াসনো কিয়েভে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ইয়াসিনোর চিফ অপারেটিং অফিসার সের্গেই কোভালেঙ্কো বলেন, ‘শহরের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিন্তু এখনও বেশ কঠিন পরিস্থিতি রয়ে গেছে। তিনি কিয়েভে প্রতিদিন কমপক্ষে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রত্যাশা জ্ঞাপন করেন।’

কোভালেঙ্কো তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, আপনার যদি গত দিন অন্তত চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে তাহলে ডিটেক কিয়েভ ইলেকট্রিক নেটওয়ার্কে লিখুন। আমার সহকর্মীরা আপনার সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করবে। ইয়াসনো ডিটেক এর একটি শাখা। এটি ইউক্রেনের সবচেয়ে বৃহৎ বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী।  

বুধবার রাশিয়ার সর্বশেষ বোমাবর্ষণে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের লক্ষাধিক জনগণ আলো, জল বা বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

রাশিয়া বলেছে তারা বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এদিকে ক্রেমলিন বলেছে কিয়েভ মধ্যস্থতা করতে অনিচ্ছুক। এর পরিণতি হিসেবেই মস্কো জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।  

ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনীয় নেতাদের একটি বিরল জনসমাবেশে জেলেনস্কি শুক্রবার কিয়েভের মেয়রের সমালোচনা করেছেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘তিনি যা বলেছেন তা খুব নগণ্য কাজ। কারণ, রাশিয়ার হামলার পরে তাপ ও বিদ্যুতহীনদের সাহায্য করার জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করতে চান কিয়েভের মেয়র।’  

ইউক্রেনারগো বলেন, ‘এই ব্ল্যাক আউট চলবে এবং বিদ্যুতের সংকটও চলবে।’

টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে একটি বিবৃতিতে ইউক্রেনারগো বলেন, ‘আমরা আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে এখন প্রতিটি ইউক্রেনীয় যাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে তারা দ্রুত অন্যদের এটি পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করতে পারে। অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ খরচ করে এটি করা সম্ভব।’ 

কিয়েভ শহরে তুষারপাত অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধের আগে কিয়েভে ২.৮ মিলিয়ন বাসিন্দা ছিল। মধ্য সপ্তাহ পর্যন্ত তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম