শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্লিনিক থেকে চুরি যাওয়া নবজাতক উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৩৩

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী বাস স্ট্যান্ডের রিয়া ক্লিনিক থেকে চুরি যাওয়া নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করেছে সাটুরিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারের পর নবজাতককে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

শনিবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া ওই নবজাতক শিশুটি শিবালয় উপজেলার নালী গ্রামের জাফর শিউলী আক্তার দম্পতির সন্তান।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের শামছুদ্দিনের ছেলে ইমান আলী (৩৮), ইমান আলীর স্ত্রী ময়না খাতুন (৩২) ও আকতার আলীর স্ত্রী শিরিন আক্তার (২৬) এবং হাসেন আলীর ছেলে ও রিয়া ক্লিনিকের ম্যানেজার আল মামুন (২৫)।

নবজাতক শিশুটির মা শিউলী আক্তার প্রসব ব্যথা নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর অভিযুক্ত আল মামুনের রিয়া ক্লিনিকে ভর্তিস হন। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিউলী আক্তার পুত্র সন্তান প্রসব করে। শিউলী আক্তার সন্তান প্রসবের ১ ঘন্টার মধ্যে ক্লিনিকের ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক আল মামুনের সহযোগিতায় নাজমুল, ইমান আলী, ময়না খাতুন ও সামছুল হক নবজাতক শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর ২১ নভেম্বর শিউলী আক্তার কিছুটা সুস্থ হয়ে তার সন্তানকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ক্লিনিকের বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলে কেউ কোন সদুত্তর দেয় না।

ভুক্তভোগী শিউলী আক্তার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে তার নবজাতক সন্তানকে না পেয়ে শনিবার (২৬ নভেম্বর) নবজাতক শিশু চুরির অভিযোগ এনে সাটুরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

সাটুরিয়া থানা পুলিশের দুটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযোগের ৩ ঘন্টার মধ্যে রাত সোয়া ১০টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের বাড়ি থেকে নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীসহ ৪ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাজমুল ও সামছুল হক পলাতক রয়েছে।

সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হবে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ইত্তেফাক/বুখারী/পিও