শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘আইন বাতিল হলেও মামলা কূর্পরের মতো উবে যাবে না’ 

আলোকচিত্র শিল্পী শহিদুল আলমের মামলার তদন্ত চলবে: আপিল বিভাগ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ২১:০০

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, কোন আইন বাতিল হওয়ার পূর্বে সেই আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলা কূর্পরের মতো উবে যাবে না। আর ফৌজদারি অপরাধ বাতিল হওয়ার কোন সুযোগ নাই। আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের করা এক আবেদনের শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রোববার এই মন্তব্য করেন। 

একইসঙ্গে শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত চলবে মর্মে আদেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে এই আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

শহিদুল আলমের কৌসুলি ব্যারিস্টার ফিদা এম কামালের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন আইন বাতিল হয়। কিন্তু ওই আইনে তখন দায়েরকৃত মামলা এখনো বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। অতএব আইন বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে বিচারাধীন মামলা বিচার চলবে না এটা বলার সুযোগ নাই।

শহিদুল আলমের কৌসুলি ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল বলেন, হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে সেটা সঠিক হয়নি। কারণ তথ্য প্রযুক্তি আইনটি এখন আর বিদ্যমান নাই। ফলে মামলার কার্যক্রম চলতে পারে না।

এ পর্যায়ে বেঞ্চের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান বলেন, ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হওয়ার সুযোগ নাই। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের অধীনে দায়ের করা এ ধরনের অনেক মামলা তদন্ত ও বিচার পর্যায়ে রয়েছে। শহিদুল আলমের মামলাই একমাত্র মামলা নয়। আর এই মামলার তদন্ত তো বন্ধ ছিল হাইকোর্টের আদেশে। 

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। তবে সেই আইন বাতিল হওয়ার কারণে মামলায় সংঘটিত অপরাধ কূর্পরের মত উবে যাবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ.এম আমিন উদ্দিন বলেন, শহিদুল আলম রিট করেছেন। সেই রিটে উনি মামলার তদন্ত বন্ধ করতে চাচ্ছেন। যদি তদন্তই না হয় তাহলে বিচার চলবে কিভাবে? আর এই মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এই মামলার তদন্তের কি অবস্থা? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি যতদূর জানি তদন্ত অনেকদূর অগ্রসর হয়েছিলো। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় তদন্ত শেষ করা যায়নি। এরপরই হাইকোর্টের রায়ের রায়ের বিরুদ্ধে শহিদুলের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট রমনা থানায় মামলা হয়। মামলায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময় ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বাতিল করে প্রণয়ন করা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এ অবস্থায় ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি ২০১৯ সালের হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট রুল দিয়ে তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। রুলের উপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। এই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন শহিদুল আলম। যা গতকাল খারিজ হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৬১(১) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন কার্যকর হবার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ও ৬৬ বিলুপ্ত, অতপর এই ধারায় বিলুপ্ত ধারা বলে উল্লিখিত, হবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিলুপ্ত ধারাসমূহের অধীন ট্রাইব্যুনালে সূচীত বা গৃহীত কোনো কার্যধারা (প্রসিডিংস) বা কোনো মামলা যে কোনো পর্যায়ে বিচারাধীন থাকলে তা এমনভাবে চলমান থাকবে যেন উক্ত ধারাসমূহ বিলুপ্ত হয় নাই। অর্থাৎ তথ্য প্রযুক্তি আইন বাতিল হলেও ওই আইনের ৫টি ধারায় করা মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলতে আইনগত কোন বাধা থাকবে না। 

ইত্তেফাক/এএএম