বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শিক্ষার্থীকে স্কুলে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ২২:২৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে স্কুলে যেতে বাধাসহ নানা রকম ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সেমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রধান শিক্ষকের অসদাচারণের বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগও দিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার সেমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী পারিবারিক অসুবিধার কারণে কিছু দিন স্কুলে যেতে পারেনি। তার পরিবারের অসুবিধা কাটিয়ে ওঠার পর গত ৯ নভেম্বর বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে উপস্থিত হলে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাচ্চু মিয়া তার সহকারী শিক্ষককে হাজিরা খাতায় উপস্থিতি নিতে বাধা প্রদান করেন। এমন কি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন তিনি। 

শিক্ষার্থীর বাবা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাচ্চু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে তার বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় তাকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর বাবাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নানা রকমভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনসহ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। 

শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, গত কয়েক মাস আগে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে অভিভাবক সদস্য পদে আমিসহ কয়েকজন বিভিন্ন পদে প্রার্থী হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার নিজস্ব লোক দিয়ে কমিটি করার জন্য নির্বাচন স্থগিত করে দেয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা বলে তফসিল ঘোষণা ছাড়াই তার মনগড়া একটি পকেট কমিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেয়। এসব অনিয়মের জন্যই আমার মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। 

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাচু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ইউএনও, টিও স্যার বলতে পারবেন বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।’

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি ছুটিতে আছি। প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে লিখিতভাবে এর জবাব চাওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে আমি লিখিত অভিযোগের বিষয় জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/পিও