বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এসএসসিতে দেশসেরা সাফল্য, রেকর্ড ভেঙেছে যশোর বোর্ড

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৮:৫১

করোনাকালের পর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে দেশসেরা সাফল্য অর্জন করেছে যশোর বোর্ড। পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তিও গতবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে দিয়ে এই বোর্ডের ফলাফল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

এ বছর এই বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৯২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৬ হাজার ৪৬১ জন। এর আগে, ২০১৩ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৬৪ ভাগ।

সোমবার দুপুরে (২৮ নভেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে যশোর বোর্ডের এ চিত্র উঠে এসেছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এ বছর যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩১৪ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৯২ জন।

যশোরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: ইত্তেফাক যশোরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: ইত্তেফাক

গত বছর (২০২১) করোনাকালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৯ জন। পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৬ হাজার ৪৬১ জন। সে অনুযায়ী, গত বছরের চেয়ে এ বছর যশোর বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী। এবার ১৪ হাজার ৪৩১ জন শিক্ষার্থী বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর পাসের হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

যশোর বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরের মতো এবারও যশোর বোর্ডে অন্য বিভাগের তুলনায় তাক লাগানো ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগ থেকে ৩৮ হাজার ৩৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৭ হাজার ৭৬৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ হাজার ৭০১ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে মেয়েরা। সর্বোচ্চ এ ফল অজর্নকারীদের মধ্যে ১১ হাজার ৭৭৭ জন ছাত্র ও ১১ হাজার ৯২৪ জন ছাত্রী। এই বিভাগে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৪১ ভাগ।

বোর্ডে পাসের হারে বিজ্ঞানের পরেই রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগ থেকে ২২ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২১ হাজার ৮৩৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৩ ভাগ। বিভাগটি থেকে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬২৬ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৯৭৮ ও ছাত্রী ১ হাজার ৬৪৮।

মানবিক বিভাগ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৭১৪ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ লাখ ১ হাজার ৭১২ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৬ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৫৬৫ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৮৬২ ও ছাত্রী ৩ হাজার ৭০৩ জন।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানিয়েছেন, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের প্রশ্নপত্র ভালো হয়েছে। আর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের অনেক বিকল্প (অপশন) ছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করেছে। এছাড়া প্রশ্নব্যাংকসহ যশোর বোর্ডের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে শিক্ষার্থীদের মূল বইয়ের প্রতি নির্ভরতা বেড়েছে। এজন্য তারা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।

শীর্ষে সাতক্ষীরা, শেষদিকে নড়াইল:

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে এবার ভালো ফলে শীর্ষ স্থান দখল করেছে সাতক্ষীরা জেলা। এ জেলা থেকে ৯৭ দশমিক ৩৮ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করে বোর্ডের মধ্যে প্রথম হয়েছে। আর শেষে রয়েছে নড়াইল জেলা। এ জেলা থেকে পাস করেছে ৯২ দশমিক ৫৫ ভাগ। সোমবার বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা। এই জেলা থেকে ৯৫ দশমিক ৭৭ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। বোর্ডে তৃতীয় অবস্থানে খুলনা। খুলনা থেকে ৯৫ দশমিক ৭৫ ভাগ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে কুষ্টিয়া। এই জেলার পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪১ ভাগ। বাগেরহাট রয়েছে ৫ম স্থানে। এই জেলার পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৮ ভাগ। ৬ষ্ঠ অবস্থানে থাকা চুয়াডাঙ্গা জেলার পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭০ ভাগ। ৭ম অবস্থানের মেহেরপুর জেলার পাসের হার ৯৪ দশমিক ৩৩। ৮ম অবস্থানে রয়েছে মাগুরা জেলা। এই জেলার পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৬। এছাড়া নবম অবস্থানে থাকা ঝিনাইদহ জেলার পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৯ ভাগ।

কেউ পাস করেনি এক স্কুলে: যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৫৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করতে পারেনি। বোর্ডের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হলো যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোয়ালদহ খড়িঞ্চা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সে অনুত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে শূন্য পাসের তালিকায় এই প্রতিষ্ঠানের নাম উঠেছে। গত বছর এই তালিকায় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। এছাড়া এ বছর শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১৩ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৫৫টি।

ইত্তেফাক/এসকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন