শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার তদন্ত নিয়ে নাটক হচ্ছে’

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ২১:২৬

বেসিক ব্যাংকের দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়। কিন্তু গত সাত বছরে একটি মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি দুদক। কেন তদন্ত সম্পন্ন করা যায়নি এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে দুদক। 

সেই প্রতিবেদনে দুদক বলছে, এসব মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো আত্মসাতকৃত অর্থ সম্পূর্ণরূপে নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে টাকার অবস্থান গোপন করা হয়েছে। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের শনাক্তকরণ ও তাদের জবানবন্দি গ্রহণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সকল সাক্ষীদের নিকট থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ণিত মামলায় আলামত প্রচুর এবং ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ কাগজপত্র থেকে প্রকৃত সব আলামত শনাক্ত করা সময়সাধ্য। এছাড়া প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটিও এই মামলায় বেশ জটিল। 

সোমবার এই প্রতিবেদনে হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপনের পর প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে বিস্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘এতো জাস্ট লাইক এ ড্রামা (এতো নাটক ছাড়া কিছুই না)। যেমন নাটক দেখে হাততালি দেবেন নয়ত চুপচাপ বসে থাকবেন, এখানে বিষয়টা সেরকমই।’ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। 

এ পর্যায়ে বেসিক ব্যাংক মামলার আসামি মোহাম্মদ আলীর কৌসুলি এসএম আবুল হোসেন বলেন, ‘দুদকই তো এই নাটক সাজিয়েছে। মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি যদি কষ্টসাধ্য হয় তাহলে দুদকের উচিত আসামিদের হয়রানি না করে তাদের ছেড়ে দেওয়া।’ তখন হাইকোর্ট বলেন, ২-৪টা লোক ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাবে আর আমরা কি চেয়ে চেয়ে দেখব? 

এ সময় আসামির আইনজীবী বলেন, ‘মাই লর্ড একটা গান আছে চেয়ে চেয়ে দেখলাম আমার বলার কিছু ছিল না।’ বিষয়টা অনেকটা সেরকম। আদালত বলেন, ‘টাকা কোথায় গেলো সেটাই দুদক চিহ্নিত করতে পারছে না। যেখান থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনার শুরু সেখান থেকে শুরু করলেই হয়। টাকা কোথায় গেলো সেটা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে।’ 

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের হওয়া ৫৬ মামলার মধ্যে পল্টন থানায় দায়েরকৃত তিনটি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী। 

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, শান্তিনগর শাখার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালনকালে এই ব্যাংক হতে বিভিন্নভাবে ৩৬২ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই মামলায় কারাগার থেকে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি। গত ২০ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেয়। কিন্তু তদন্ত শেষ করতে না পেরে হাইকোর্টে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠায়। 

ওই প্রতিবেদনে দুদক বলছে, মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ায় এমএলএআর করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত এর প্রতিবেদন ও আলামত এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলাগুলোর আগের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বদলিসূত্রে অন্যত্র চলে যাওয়ায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে। আসামি ও আলামত শনাক্ত করা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা ও এমএলএআর এর প্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে মামলার প্রয়োজনীয় আলামত পাওয়া সাপেক্ষে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রতিবেদন ও আসামির জামিন শুনানিতে আবুল হোসেন বলেন, ‘যেহেতু মামলার চার্জশিট হয়নি এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি সেজন্য আসামি জামিন পাওয়ার হকদার। এছাড়া অন্যান্য আসামিও জামিনে রয়েছেন।’ 

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আপনার আসামি যে নিরপরাধ সেটা আপনাকে প্রমাণ করতে হবে।’ আগামীকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি করবেন দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান।

ইত্তেফাক/এএএম