শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

একাদশে ভর্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১ ডিসেম্বর

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০৫

এসএসসির ফল প্রকাশের পরই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা থাকেন ভর্তি নিয়ে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। কোথায় ভর্তি হবে। ভালো মানের কলেজ, পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ হবে তো? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা। খোঁজখবর রাখছেন কবে থেকে আবেদন শুরু। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় ভর্তি হতে হবে—এমন নানা তথ্য।  তবে আশার খবর এই যে, এবারে এসএসসিতে পাশ করা সব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরও সাড়ে ৭ লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গতকাল ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, সারা দেশে ২৫ লাখের মতো আসন আছে। আর ঢাকায় আসন আছে ৫ লাখ। তাই ভর্তির আসন নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। 

২০২২ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাশ করে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন। তাই সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও সাড়ে ৭ লাখ আসন শূন্য থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যত শিক্ষার্থী পাশ করবে সবাইও ভর্তি হবে না। একটি অংশ ঝরে পড়বে। ১৫ শতাংশ ঝরে পড়লেও আরো আড়াই লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হবে না। ফলে ১০ লাখ আসন ফাঁকা থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।  সারা দেশে ৫ হাজারের বেশি কলেজ রয়েছে। তবে ভালো কলেজের সংকট থাকায় জিপিএ-৫ পাওয়া সব প্রার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ পরীক্ষার্থী। কিন্তু দেশের ভালো মানের কলেজে আসনসংখ্যা ১ লাখের বেশি নয়। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা   সবাই পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। অভিভাবকদের শঙ্কা, পছন্দের কলেজ ভর্তি হতে না পারলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনেকে পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়তে পারে। এতে এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করার প্রতি তাদের চেষ্টা ও প্রতিযোগিতার মনোভাবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভালো কলেজে ভর্তির চেয়ে নিজের বাড়ির কাছের কলেজে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, দূরের কলেজে ভর্তি হলে যাতায়াতে অনেক সময়-শ্রম নষ্ট হয়। তাই কাছের কলেজে ভর্তি হওয়া উচিত। নিজ প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটিতে কাছের শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। এবার ১ হাজার ৩৬২ জন পরীক্ষা দিয়ে মাত্র এক জন ফেল করে। আর ১ হাজার ৮৩ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।  শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সহযোগিতা থাকলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ভালো হতে পারে। 

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ১ ডিসেম্বর। তবে ইতিমধ্যে একটি খসড়া তৈরি হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আগামী ৮ ডিসেম্বর। চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রথম পর্যায়ে ফল প্রকাশ হবে ৩১ ডিসেম্বর। প্রথম পর্যায়ে যারা ভর্তির সুযোগ পাবে না, তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ থাকবে। এই পর্যায়ের আবেদন চলবে ৯ ও ১০ জানুয়ারি। এই পর্বের ফল প্রকাশ ১২ জানুয়ারি।

গত বছরের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমান প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষার্থী যত কলেজে আবেদন করবে, সেগুলোর মধ্য থেকে মেধা, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটিমাত্র কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে গত সোমবার এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজে একাদশে ভর্তি আগের মতোই ফলাফলের ভিত্তিতেই হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, আমাদের উচ্চমাধ্যমিকের ভর্তি যে পদ্ধতিতে হয়, একদম সেই পদ্ধতিতে এবারও হবে। সেখানে আমাদের কোনো ব্যত্যয় নেই। গত বছর ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে হয়েছিল। কয়েকটি কলেজ ছাড়া অন্য কোথাও কোনো ভর্তি পরীক্ষা ছিল না। জিপিএ ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়।

 

ইত্তেফাক/ইআ