বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মধ্যবিত্তরাও ওএমএসের লাইনে, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়েও মিলছে না পণ্য

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০২

বেড়া পৌর এলাকার পাটপট্টি এলাকায় ওএমএস ডিলার ইকবাল হোসেন পাপ্পুর বিক্রয়কেন্দ্র। সকাল ৮টা থেকে এই বিক্রয়কেন্দ্রে চাল বিক্রি শুরু হলেও গত বুধবার ভোর ৬টায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন মার্জিত পোশাকের নারী-পুরুষকে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কথা বলে জানা যায়, তারা মধ্যবিত্ত পরিবারের। একান্ত নিরুপায় হয়ে ওএমএসের চাল কিনতে এসেছেন তারা।  

তাদের মধ্যে দক্ষিণপাড়া মহল্লার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ওএমএসের দোকানে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে হবে, তা কোনোদিনও ভাবেননি। দোকান থেকে যা আয় হয় তাতে ভালোভাবেই সংসার চলত। কিন্তু এখন কোনোভাবেই আর সংসার চালাতে পারছেন না। আটা, চাল, চিনি, তেল, গ্যাস (সিলিন্ডার) থেকে শুরু করে প্রতিটি দ্রব্যের দামই নাগালের বাইরে। তাই লজ্জা লাগলেও লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন। গতদিনও লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে সেদিন দেরিতে এসেছিলেন বলে বিক্রয় কেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় তা আর পাননি। তাই গতকাল গত বুধবার তাড়াতাড়ি এসেছিলেন। বেড়ায় স্বল্পমূল্যে ওএমএসের চাল কিনতে এভাবে নিম্নবিত্তদের সঙ্গে মধ্যবিত্ত অনেকেই বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর সামনে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। বেশির ভাগ পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং বিগত দিনের চেয়ে এবার চালের মান ভালো হওয়ায় ওএমএসের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সংখ্যক ক্রেতার চেয়ে অনেক বেশি ক্রেতা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। আর এসব অতিরিক্ত ক্রেতা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত পণ্য পাচ্ছেন না। বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় ডিলাররা বরাদ্দ বাড়াতে খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

 পৌর এলাকার সিনেমা হলের মোড়ের ওএমএস ডিলার নূর ইসলাম ভোগলা বলেন, ‘নির্ধারিত সংখ্যক মানুষের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মানুষ এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অনেক সময় হাতাহাতিসহ অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে।’ বেড়া পৌরসভার পাটপট্টি এলাকার ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চালের জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন পৌর এলাকার শেখপাড়া মহল্লার সুমিত্রা রাণী, মালতী খাতুন। তারা জানান, সকাল ৯টায় এসে লাইনে দাঁড়ান।  কিন্তু এখন (বেলা সাড়ে ১১টা) শুনতে পাচ্ছেন আজকের জন্য বরাদ্দের চাল শেষ হয়ে গেছে।

 এই বিক্রয়কেন্দ্রের ডিলার আকবাল হোসেন পাপ্পু বলেন, ‘সপ্তাহে দুদিন এক টন করে মোট দুই টন চাল আমরা বরাদ্দ পেয়ে থাকি। প্রতিদিন পাঁচ কেজি করে ২০০ লোকের কাছে চাল বিক্রি করছি। কিন্তু লাইনে এসে দাঁড়াচ্ছেন বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ। ফলে অনেকেই পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’ খোলাবাজারের চাল আটা কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, এমনিতে বাজারে নিম্নমানের চাল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অথচ ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রে চাল ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর মানও বেশ ভালো। তাই তারা ওএমএসের ডিলারের দোকানে ভিড় করছেন।

বেড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউসারুল আলম বলেন, ‘খোলাবাজারের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েই চলেছে। এজন্য বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়ায় বেড়া পৌর এলাকার চার জন ডিলারের মাধ্যমে শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন চারটি পয়েন্টে মোট চার টন চাল বিক্রি হচ্ছে। জনপ্রতি ৩০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি চাল বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রিতে কোনোরকম অনিয়ম যাতে না হয় সে ব্যাপারে সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।’

 

ইত্তেফাক/ইআ