রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হত্যার ৩৩ বছর পর রায়: সাবেক মেয়রসহ ৬ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:৪২

কক্সবাজারের মহেশখলীর চাঞ্চল্যকর খাইরুল আমিন সিকদার হত্যার ৩৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজমদ, তার ভাই উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মৌলভী জহির উদ্দীন, নাছির উদ্দীন, তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম প্রকাশ শামসু চেয়ারম্যান, অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ও সাধন দাশ। রায় ঘোষণার সময় সাধন ছাড়া অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত তৎকালীন জনপ্রিয় রাজনৈতিক খাইরুল আমিন সিকদার।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ ৩২ বছর আগে মহেশখালী পৌরসভায় হত্যাকাণ্ডে শিকার হন জাতীয় পার্টির তৎকালীন নেতা খাইরুল আমিন। তবে দীর্ঘদিন নানা জটিলতায় মামলার অগ্রগতি ছিল না। সম্প্রতি আমরা মামলটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিই। মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের  খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া মামলা চলাকালীন সময় ২ জন মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন জমে থাকা আলোচিত মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দ্রুত শেষ করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মহেশখালী গোরগঘাটা এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে প্রাণ হারান কক্সবজার জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও তৎকালীন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা খাইরুল আমিন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মাহমুদুল হক বাদী হয়ে তৎকালীন গোরগঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলমসহ ২৬ জনকে আসামি করে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে একই বছর ২২ নভেম্বর ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় সিআইডি। ২০০৩ সালের ২৭ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর রায়ের দিন নির্ধারণ করকা হয় ১০ নভেম্বর। আগে বেশ কয়েকবার রায়ের তারিখ পিছিয়েছেন আদালত। আসামিদের কারাগারে পাঠানোর পর ২৪ নভেম্বর চূড়ান্ত রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেদিনও রায় না হয়ে ১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হলো।

ইত্তেফাক/এসকে