শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এসএসসি: দুই কেন্দ্রের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পায়নি ব্যবহারিক নম্বর

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭:৩৩

জামালপুরের মেলান্দহে সদ্য প্রকাশিত এসএসসির ফলে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর রেজাল্ট শিটে ব্যবহারিক নম্বর যোগ হয়নি। এতে দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ১৪টি স্কুলের মোট ১ হাজার ২১৩ শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাও বিপাকে পড়েছেন।

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার সর্বশেষ ফলাফল ঘোষণায় চলমান পরীক্ষা পদ্ধতির গ্রেডিং-এ ওইসকল শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্রে ফেল দেখানো হচ্ছে।

২৮ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর কয়েকজন পরীক্ষার্থীদের নম্বরপত্রে এই চিত্র ধরা পড়ে। পরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, হাজরাবাড়ি এবং ভাবকী হাই স্কুল কেন্দ্রের কোনো পরীক্ষার্থীর খাতায় ব্যবহারিক নম্বর যোগ হয়নি।

এ বিষয়ে হাজরাবাড়ি হাই স্কুলের কেন্দ্রসচিব আব্দুল মোতালেব বিএসসি এবং ভাবকী হাই স্কুলের কেন্দ্রসচিব মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে এই অসঙ্গতির কথা স্বীকার করেন।

উপজেলা প্রশাসন কিংবা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি এখনো জানানো হয়নি। ফিজিক্যাল-হেলথ-ক্রীড়া বিষয়ে ১০০ এবং সদাচরণ বা শুদ্ধাচার বিষয়ে ৫০ নম্বরসহ সর্বমোট ১৫০ নম্বর কোনো শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী অভিভাবকদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ও হানিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, ব্যবহারিক নম্বর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাত দিয়েই দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মার্কশিটে ব্যবহারিক নম্বর যোগ না হওয়া মানে ফেল বোঝানো হয়। কেন এমনটা হলো, তার কোনো উত্তর মিলছে না।

এ ব্যাপারে শিক্ষক নেতা এবং মালঞ্চ এম.এ. গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন বিএসসি জানান, ব্যবহারিক নম্বর শিক্ষার্থীদের পাওয়া ন্যায্যতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি মূল্যায়নের বহিঃপ্রকাশ। কোনো কারণে এই নম্বর যোগ না হলে শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। কর্মক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হেড মাস্টার জানান, ইন্টারনেটে প্রকাশিত এমন ফলাফল পেয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ওপর চড়াও হয়েছে।

ভাবকী হাই স্কুলের কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমান সার্ভার সমস্যাকে দায়ী করে বলেন, বোর্ডে যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। সার্ভার সমস্যা থাকলে সরাসরি বোর্ডে নম্বর জমা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম মিঞা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান জানান, বিষয়টি কেউ অবগত করেননি। তারপরও খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এ ধরণের ফলাফল বিপর্যয়ের সংশোধনী সময় এবং দুর্ভোগের। এ ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশন এস.এম. মুবাশ্বির হোসাইন জানান, ব্যবহারিক এই নম্বর বোর্ডের কোনো নির্ধারিত বিষয় নয়। এটি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়া। যদি এমন অসঙ্গতি হয়ে থাকে, তাহলে বোর্ড কন্ট্রোলার বরাবর আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কে। বোর্ড কন্ট্রোলার যুক্তিসঙ্গত মনে করলে ফলাফল পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

ইত্তেফাক/এসকে